আইন-শৃঙ্খলা

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে থানার নারী হত্যা মামলায় একমাত্র আসামির মৃত্যুদন্ড

মোঃ মোশারপ হোসেন সেলিম রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি: রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে থানার হাসিনা বেগম (প্রকাশ) সুমি হত্যা মামলায় মূল অভিযুক্ত মোহাম্মদ মাহিবুর কামাল প্রকাশ মোহিবুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এটি রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় মৃত্যুদণ্ডের রায়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাঙামাটির জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১১ মার্চ সন্ধ্যার পর রাঙুনিয়ার দুবাসী বাজারের ভাড়া বাসা থেকে কাপ্তাই নতুন বাজার এলাকায় যাওয়ার পর হাসিনা বেগম নিখোঁজ হন। পরদিন কাপ্তাই থানাধীন চন্দ্রঘোনা-কাপ্তাই ইউনিয়নের বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং আগুনে পোড়ানোর আলামত পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে ১৩ মার্চ ২০২২ কাপ্তাই থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

প্রথম দফা তদন্তের পর ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে দেওয়া হয়। পিবিআই তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি একই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। আসামিপক্ষ কোনো সাফাই সাক্ষী দেয়নি। আদালতে আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিনিয়র অ্যাডভোকেট প্রতিম রায় পাম্পু। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির, মোখতার আহমদ, সফিউল আলম মিয়া ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাসুম রহিম।

রায়ের পর আদালতের পিপি প্রতিম রায় পাম্পু বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বার্তা যাবে; অপরাধ করে কেউ পার পাবে না, একসময় তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুম রহিম জানিয়েছেন, তারা এ ধরনের রায় প্রত্যাশা করেননি। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামির সঙ্গে আলোচনা করে আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button