দেশ

সহস্রাইল-কালিনগর সড়কের কার্পেটিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ

মহাব্বত মুন্সী (বোয়ালমারী প্রতিনিধি): ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সহস্রাইল থেকে কালিনগর সড়কের কার্পেটিং কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুপাশে তিন ফুট করে মাটি দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়েই চলছে কার্পেটিংয়ের কাজ। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটির দুপাশে নির্ধারিতভাবে প্রায় তিন ফুট করে মাটি দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় সেই কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। প্রয়োজনীয় মাটি না দিয়েই সড়কের ওপর কার্পেটিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এছাড়া আরও অভিযোগ রয়েছে, সড়কের বেড তৈরির পর প্রায় এক মাস আগে তেল ও বিটুমিন দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই পুরোনো বিটুমিনের ওপরই কার্পেটিংয়ের কাজ চালানো হচ্ছে। নতুন করে প্রয়োজনীয় বিটুমিন প্রয়োগ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো বিটুমিনের ওপর নতুন করে যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করে মাটি-বালুর ওপরই কার্পেটিং করা হচ্ছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “রাস্তার দুপাশে মাটি দেওয়ার কথা থাকলেও কোথাও ঠিকমতো মাটি দেওয়া হয়নি। আবার প্রায় এক মাস আগে বিটুমিন দেওয়ার পর এখন সেটার ওপর ভালোভাবে পরিষ্কার না করেই কার্পেটিং করা হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা প্রয়োজন।”

অন্য এক বাসিন্দা বলেন, “সরকারি অর্থে নির্মিত রাস্তা যেন দ্রুত নষ্ট না হয়, সেজন্য কাজের প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না তা তদারকি করা দরকার।”

এ বিষয়ে স্থানীয় এক ওয়ার্ড সদস্য জনাব মঙ্গল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “সিডিউল অনুযায়ী কোনো কাজ হচ্ছে না। যেভাবে কাজ করা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে আগামী এক মাসের মধ্যেই রাস্তা আবার ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হতে পারে।” তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কাজের মান যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয়দের দাবি, সহস্রাইল-কালিনগর সড়কের নির্মাণকাজের প্রাক্কলন, কার্যাদেশ ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা হোক। পাশাপাশি ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান এবং কার্পেটিংয়ের আগে প্রয়োজনীয় বিটুমিন প্রয়োগ করা হয়েছে কি না—তা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের মাধ্যমে যাচাই করা হোক।

অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে কাজের তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কাজ শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শন করে অভিযোগগুলো যাচাই করবেন এবং কাজটি নির্ধারিত মান ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সম্পন্ন করা নিশ্চিত করবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button