খুলনার রূপসায় ছেলেকে হত্যার দেড় মাসের মাথায় বাবাকে গুলি করে হত্যা

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্ক: খুলনার রূপসা উপজেলায় সন্ত্রাসী হামলায় নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন আক্তার ঢালী (৫৫) নামের এক ব্যক্তি। এর আগে গত ১৫ আগস্ট তার ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পুত্রশোাকের দেড় মাসের মাথায় একই কায়দায় এবার বাবাকেও প্রাণ হারাতে হলো।
সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আক্তার ঢালী স্থানীয় দুর্জনীমহল এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে মসজিদের পাশেই একটি চায়ের দোকানে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলছিলেন আক্তার ঢালী। এ সময় হঠাৎ মোটরসাইকেলে করে এসে হেলমেট পরা একদল অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে সটকে পড়ে। গুলির শব্দে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় বেঞ্চের পাশে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার জাহিদ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় দুর্জনীমহলের শহীদের মোড় এলাকায় আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। জয় ঢালীর বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একাধিক মামলা ছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জয়ের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বাবাকেও হত্যার শিকার হতে হলো।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুধু রূপসা উপজেলাতেই চলতি বছরে এটি ১২তম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। অন্যদিকে, পুরো খুলনা জেলায় জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩৩টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত সাতটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে। এসব মামলার মধ্যে পারিবারিক কলহ, মাদক, চুরি-ছিনতাই এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেশিরভাগ ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় পুলিশ।
জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। দ্রুতই এ ঘটনার পেছনে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।



