চট্টগ্রামে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৪ সদস্য আটক, উদ্ধার ৬ চোরাই বাইক

দুলাল শিকদার: চট্টগ্রাম মহানগরীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চুরির অভিযোগে আন্তঃজেলা চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী থানা পুলিশ। এ সময় চোরাই ছয়টি মোটরসাইকেল, একটি বাইসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
সিএমপি পুলিশ কমিশনারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবিরের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গত ১২ ও ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা এবং নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১২ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে কোতোয়ালী থানাধীন সিআরবি কাঠের বাংলোর সিঁড়ির গোড়ায় অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহমান প্রকাশ সুমন প্রকাশ আনোয়ার (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়নের ইছহাক ড্রাইভার হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বিপরীতে একটি ফার্নিচারের দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে মাইনুদ্দিন মুরাদ (২৭) নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি পুরোনো Honda Livo ১১০ সিসি মোটরসাইকেল ও একটি Vivo T4x 5G মডেলের স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে মীরসরাইয়ের মিঠানালা ইউনিয়নের রহমতাবাদ এলাকায় সুলতান পাঠানবাড়ির সামনে মো. পারভেজ অভির একটি পরিত্যক্ত ঘরে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তাদের দেখানো মতে একটি পুরোনো Ignitor ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
একই দিন সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানাধীন ৬ নম্বর ইউনিয়নের ইছাখালী এলাকায় হাজী আব্দুল খালেকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শাহাদাত হোসেন (৩০) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি পুরোনো HERO Splendor মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নোয়াখালীর সুধারাম থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই দিন বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ৮ নম্বর এওয়াজ বালিয়া ইউনিয়নে মালেকা সমাজের নুরুল আমিনের দোকানের সামনে থেকে আবু হুরায়রা (৩০) নামে চক্রের অপর এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেখানো মতে সেখান থেকে একটি পুরোনো Glamour ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল, একটি Honda Dream Neo মোটরসাইকেল ও একটি Vivo Y19s Pro মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার চারজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নোয়াখালীর সুধারাম থানাধীন ২ নম্বর দাতপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর কালামিয়া ব্যাপারী বাড়িতে আরও একটি চোরাই মোটরসাইকেল থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি পুরোনো Yamaha Saluto মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চট্টগ্রাম মহানগরীসহ চট্টগ্রাম ও আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সংঘবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত। অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে নিজেদের হেফাজতে রাখতেন তারা। উদ্ধার করা মোটরসাইকেলগুলো চোরাই বলে জেনেও নিজেদের কাছে রাখার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মোটরসাইকেলগুলো কোথা থেকে চুরি করা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা তথ্য গোপন করছেন। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ও উদ্ধার করা আলামতসহ কোতোয়ালী থানা পুলিশ থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পেনাল কোডের ৪১১ ধারায় মামলা নম্বর ৪২ রুজু করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আব্দুর রহমান প্রকাশ সুমন প্রকাশ আনোয়ারের বিরুদ্ধে চুরি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে চারটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ বিভিন্ন আইনে দুটি মামলা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্ত এবং চুরির সঙ্গে জড়িত অন্যদের খুঁজে বের করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



