ইসলাম ধর্মধর্ম ও জীবন

ধন-সম্পদের ক্ষণস্থায়ী মোহ ও মৃত্যুর নির্দয় বাস্তবতা

ইসলামিক বিচিত্রা ডেস্ক: দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ধন-সম্পদের অন্ধ মোহ, অহংকার এবং মৃত্যুর অনিবার্য বাস্তবতা নিয়ে এক চিরন্তন তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষা ফুটে উঠেছে ইসলামি ইতিহাসের বিশেষ এই উপাখ্যানে। প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম ইবনে আবিদ্দুনিয়া (রহ.) রচিত ‘আল মাউত’ গ্রন্থের বর্ণনা অবলম্বনে সংকলিত এই শিক্ষাগ্রাহ্য ঘটনাটি পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো।

এক ব্যক্তি সারা জীবন কঠোর পরিশ্রম ও মোহের বশে প্রচুর ধন-সম্পদ অর্জন করে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত প্রাসাদ নির্মাণ করে। একদিন প্রাসাদে বিলাসবহুল রাজকীয় খাবারের আয়োজন শেষে অহংকারবশত নিজের মনকে উদ্দেশ্য করে সে বলে ওঠে, বহু বছরের জন্য নিশ্চিন্তে ভোগ-বিলাসের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা সে করে ফেলেছে।

তবে তার অহংকারের বার্তা শেষ হতে না হতেই ছদ্মবেশে প্রাসাদের দরজায় কড়া নাড়েন মালাকুল মাউত (মৃত্যুর ফেরেশতা)। প্রহরীদের ধমক উপেক্ষা করে নিজের পরিচয় প্রদান করতেই গোটা প্রাসাদে নেমে আসে মৃত্যুর ভয়াল স্তব্ধতা।

মৃত্যুর ফেরেশতা প্রাসাদে প্রবেশ করে ওই ব্যক্তিকে জানিয়ে দেন যে তার জীবনকালের আয়ু সমাপ্ত। নিশ্চিত মৃত্যু জেনে লোকটি তার সারা জীবনের জমানো সম্পদের দিকে তাকিয়ে আক্ষেপ করে সেগুলোকে অভিশাপ দেয় এবং বলে— এই সম্পদই তাকে স্রষ্টার ইবাদত ও স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল।

ঠিক সেই মুহূর্তে জমানো সম্পদের স্তূপ থেকে রূপক প্রতিক্রিয়া হিসেবে একটি শিক্ষাগ্রাহ্য বার্তা ভেসে আসে:

“আজ আমাকে গালি দিচ্ছ কেন? তুমি তো আমাকে ব্যবহার করেই সমাজের উঁচুতলায় প্রভাব বিস্তার করতে এবং দুনিয়ার সমস্ত হারাম ও বিলাসী কাজে ডুবে থাকতে। যদি আমাকে আল্লাহর রাস্তায় সৎকাজে বায় করতে, তবে আজ আমিই তোমার উপকারে আসতাম। কিন্তু তা না করে আজ ঘাড়ে পাপাচারের পাহাড় নিয়ে অন্ধকার মাটিতে ফিরে যাচ্ছ।”

কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যুর ফেরেশতা তার জান কবজ করেন এবং সে নিথর হয়ে ধুলোয় লুটিয়ে পড়ে।

ইসলামি মূল্যবোধ অনুযায়ী, পার্থিব ধন-সম্পদ মূলত একটি মাধ্যম মাত্র। এটি স্বতসিদ্ধভাবে ভালো বা খারাপ কোনটিই নয়; বরং মানবজাতি এটি কীভাবে ব্যবহার করছে তার ওপরই এর গুণাগুণ নির্ধারিত হয়। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি বাদ দিয়ে যে সম্পদ জমিয়ে রাখা হয়, তা মৃত্যুর সময় কোনো উপকারে আসে না; বরং হাশরের ময়দানে তা নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করবে। ইসলামি গবেষকরা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহ ত্যাগ করে সৎপথ ও ঈমানের ওপর অবিচল থাকার তাগিদ প্রদান করেছেন।

(তথ্যসূত্র: আল মাউত — ইমাম ইবনে আবিদ্দুনিয়া রহ. / সংকলক: ক্বারী মোঃ ইমান আলী)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button