দেশ

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন পাহাড়ি জনপদের সাইমুন

রাঙামাটি জেল প্রতিনিধি (মোশারপ হোসেন সেলিম): পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষায় অসামান্য অবদান: প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন পাহাড়ি জনপদের সাইমুন

রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি জনপদের পরিবেশ, বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক জলবায়ু রক্ষায় নিবেদিতপ্রাণ তরুণ স্বেচ্ছাসেবী মো. সাইমুন ইসলাম অর্জন করেছেন সম্মানজনক ‘ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। গত ১৭ অক্টোবর (২০২৬) সন্ধ্যায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন।

‘পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলা’ ক্যাটাগরিতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত দুর্গম ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর রাঙামাটি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করছেন সাইমুন। তার নিজস্ব উদ্যোগ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্নবুন-Dream Deviser’-এর মাধ্যমে রাঙামাটির ১৪টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীসহ ১০টি উপজেলার তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করে তিনি একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

সাইমুনের নেতৃত্বে ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর উদ্যোগে রাঙামাটিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ দূষণ রোধে সফল কমিউনিটি অ্যাকশন সভা পরিচালিত হয়। এছাড়া ‘বিডি ক্লিন রাঙামাটি’ ও ‘ব্র্যাক’-এর যৌথ সহযোগিতায় তিনি শহর পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কার্যকর বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছেন।

প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাইমুন ‘Snake Rescue Team Bangladesh’ থেকে পেশাদার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বন বিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে লোকালয়ে চলে আসা সাপসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী নিরাপদে উদ্ধার এবং পরবর্তীতে অবমুক্ত করে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পাশাপাশি, লোকালয়ে সাপে কাটা রোগীদের প্রাথমিক করণীয় ও ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন সরকারি কলেজে সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করেন তিনি।

করোনা মহামারির সংকটকালে পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো, মৃতের দাফন সৎকার পরিচালনা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ থেকে শুরু করে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণসহ সব ধরনের সামাজিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাইমুন ও তার দল সর্বদা অগ্রভাগে থেকে মানবিক সেবা দিয়ে আসছেন।

সাইমুন ইসলামের এই আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বীকৃতিতে রাঙামাটিজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার। স্থানীয় সুশীল সমাজের মতে, তার এই অসাধারণ পথচলা ও স্বীকৃতি দেশের তরুণ প্রজন্মকে স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ড, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও বেশি উৎসাহিত করবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button