ছাতক নদীবন্দরে শুল্ক আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ, আইজিপির কাছে তদন্তের আবেদন

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক নদীবন্দরে শুল্ক আদায়ে অনিয়ম, অনুমোদিত শুল্কহারের বাইরে অর্থ আদায় এবং চলন্ত নৌযান থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর ইজারাসংক্রান্ত নথিপত্র, কার্যাদেশ ও অনুমোদিত শুল্কহারের তালিকা পর্যালোচনা করে এ অভিযোগ করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
মো. আরিফুর রহমান মানিক গত ১৪ অক্টোবর আইজিপির কাছে এ আবেদন করেন। আবেদনে শুল্ক আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের বৈধ কর্তৃত্ব এবং অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নিয়ন্ত্রণাধীন ছাতক নদীবন্দরের নৌযান ও জাহাজের এলএসসি এবং বার্দিং চার্জ আদায় কেন্দ্রটি ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ৩০ দিনের জন্য মেসার্স সনি সোহা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী চন্দন তালুকদারের অনুকূলে সাময়িকভাবে ইজারা দেওয়া হয়।
আবেদন অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএর ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের কার্যাদেশে অনুমোদিত শুল্কহার অনুযায়ী অর্থ আদায় এবং নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত অর্থ না নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের অন্য কোনো ঘাট বা পয়েন্ট থেকে আসা চলন্ত নৌযান থেকে পুনরায় শুল্ক আদায় না করার নির্দেশনাও রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদিত শুল্কহার তালিকা অনুযায়ী, সাধারণ মালামাল ওঠানামার ক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টন বা অংশবিশেষে ভ্যাটসহ ৭০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে বলে আবেদনে বলা হয়েছে।
তবে স্থানীয় নৌযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও শ্রমিকদের অভিযোগের বরাত দিয়ে আবেদনকারী দাবি করেন, শুল্ক আদায়ের কার্যক্রমে একাধিক ব্যক্তি সম্পৃক্ত রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের মালামালের ক্ষেত্রে শুল্ক আদায় এবং ইজারাপ্রদত্ত ঘাট বা পয়েন্টের বাইরে চলন্ত নদীতে অবস্থানরত নৌযান থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
আবেদনে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে আদায়ের রসিদ, হিসাবপত্র, অর্থ আদায়ের স্থান ও কারণ এবং শুল্ক আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বৈধ কর্তৃত্ব পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে অনুমোদনবহির্ভূত অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অন্য কোনো আমলযোগ্য অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবেদনকারী অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



