ইসলাম ধর্মধর্ম ও জীবন

সমুদ্রের গভীরেও আল্লাহর নিখুঁত রিজিক ব্যবস্থাপনা: সুলাইমান (আ.)-এর জীবনের বিস্ময়কর ঘটনা

ইসলাম ও ইতিহাস: আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরতের পরিধি কতখানি ব্যাপক, তার এক অনন্য ও হৃদয়গ্রাহী নিদর্শন ফুটে উঠেছে নবী হযরত সুলাইমান (আ.)-এর জীবনের এই বর্ণনায়। প্রখ্যাত ইসলামিক গ্রন্থ ‘নুযহাতুল মাজালিস’-এ বর্ণিত এই চমৎকার ঘটনাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

একবার আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান (আ.) সমুদ্রের তীরে গিয়ে এক অবাক করা কাণ্ড দেখতে পান। তিনি লক্ষ করেন, একটি ক্ষুদ্র পিঁপড়ে মুখে একটি সবুজ পাতা নিয়ে সমুদ্রের পানির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পিঁপড়েটি যখন পানির কিনারায় পৌঁছাল, তখন হুট করে পানি থেকে একটি ব্যাঙ উঠে এল।

পিঁপড়েটি কোনো দ্বিধা ছাড়াই ব্যাঙের পিঠে চড়ে বসল এবং ব্যাঙটি তাকে নিয়ে গভীর পানির নিচে ডুব দিল। কিছু সময় পর ব্যাঙটি পুনরায় ফিরে এল এবং পিঁপড়েটি ডাঙায় নেমে এল। কিন্তু কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, ডাঙায় আসার পর পিঁপড়েটির মুখে সেই সবুজ পাতাটি আর ছিল না।

দৃশ্যটি দেখে কৌতূহলী হয়ে হযরত সুলাইমান (আ.) পিঁপড়েটিকে কাছে ডেকে এর কারণ জানতে চাইলেন। তখন পিঁপড়েটি আল্লাহর নবীর সামনে তুলে ধরে এক বিস্ময়কর তথ্য:

“হে আল্লাহর নবী! এই সমুদ্রের গভীর তলদেশে একটি বিশাল ও শক্ত পাথর রয়েছে। সেই পাথরের ঠিক ভেতরে একটি পোকা বসবাস করে। মহান আল্লাহ তাআলা আমাকে প্রতিদিন নিয়মিত দুইবার করে ওই পোকার কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। পাশাপাশি, আল্লাহ এই ব্যাঙটিকে হুকুম দিয়েছেন যেন সে আমাকে সমুদ্রের তলদেশে ওই পাথর পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। আমি যখন সেখানে পৌঁছাই, তখন অলৌকিকভাবে পাথরটি ফেটে যায় এবং আমি ভেতরে প্রবেশ করে পোকাটিকে পাতাটি খাইয়ে আসি।”

হযরত সুলাইমান (আ.) আরও অবাক হয়ে পিঁপড়েটিকে জিজ্ঞেস করলেন, খাবার পাওয়ার পর সেই পোকাটি কি কোনো কথা বলে বা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে?

উত্তরে পিঁপড়েটি জানাল, পোকাটি খাবার পেয়ে মহান রবের শুকরিয়া আদায় করে এভাবে বলে:

“পবিত্র সেই মহান সত্তা, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমাকে এই অন্ধকার সমুদ্রের তলদেশে পাথরের ভেতর নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছেন এবং এই দুর্গম স্থানেও আমার রিজিকের কথা ভুলে যাননি! হে আল্লাহ! আপনি যেমন আমার রিজিকের কথা একটুও ভুলে যাননি, তেমনি আপনি উম্মতে মুহাম্মাদীর প্রতি আপনার ক্ষমা ও রহমতের কথাও কখনো ভুলে যাবেন না!”

মহান আল্লাহর রিজিক বণ্টনের নিখুঁত ও বিস্ময়কর ব্যবস্থাপনা সত্যিই কল্পনার অতীত। গভীর সমুদ্রের তলদেশে, সূর্যালোকহীন এক নিরেট পাথরের ভেতরে বন্দি ক্ষুদ্র পোকাটির খাবারও তিনি যেখানে নিখুঁতভাবে পৌঁছে দেন, সেখানে আশরাফুল মাখলুকাত মানুষের জীবনে যতই সংকট বা অনিশ্চয়তা আসুক না কেন—নিরাশ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল (ভরসা) ও বিশ্বাস রাখলে তিনি এমন উৎস থেকে রিজিক ও সুরাহার ব্যবস্থা করবেন, যা মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।

(তথ্যসূত্র: নুযহাতুল মাজালিস / সংকলক: সালমান ফার্সি)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button