মুন্সিগঞ্জে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও লাখ টাকা জরিমানা
অনলাইন ডেস্ক: মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় নিজের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের লোমহর্ষক ও নৃশংস অপরাধের দায়ে এবাদত মীর (৫১) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে অতিরিক্ত মেয়াদের সাজা ভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তেহসিন ইফতেখার আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার দক্ষিণ চারিগাঁও আশ্রয়ণ কেন্দ্রে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটির মা ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। সেই সুযোগে আসামি এবাদত মীর নিজের সন্তানকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে নির্যাতন ও ধর্ষণ করে আসছিলেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার দিন নিজ বাড়িতে মেয়েকে ধর্ষণের সময় স্থানীয় এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে আসামিকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী ইউনুস ফরাজী বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি লৌহজং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা চলাকালীন আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও রাষ্ট্রপক্ষের সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণ ও জবানবন্দি দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে আদালত এই রায় দেন। বিচারক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মুন্সীগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিউকিটর (পিপি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে আদালতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সমাজে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছাবে।”
অন্যদিকে, আদালতের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী আল মামুন জানান, তাঁরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।



