ইসলাম ধর্মধর্ম ও জীবন

তাকদিরের সঠিক ধারণা ও শয়তানের প্রলোভন নিয়ে হজরত ঈসা (আ.)-এর শিক্ষণীয় ঘটনা

ইসলামিক ইতিহাস ডেস্ক: আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা বা তাওয়াক্কুল এবং তাকদিরের সঠিক ধারণা নিয়ে প্রখ্যাত ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘মাকাইদুশ শায়তান’-এ ইমাম ইবনে আবিদ্দুনিয়া (রহ.) একটি অত্যন্ত শিক্ষণীয় ও রূপক ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এই ঘটনার মাধ্যমে শয়তানের চিরন্তন প্রলোভন এবং মানুষের সঠিক বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

পাহাড়ের চূড়ায় ইবলিসের ধোঁকা

একদিন আল্লাহর নবী হজরত ঈসা (আ.) এক পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে একনিষ্ঠভাবে নামাজ আদায় করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে মানবজাতির প্রকাশ্য শত্রু ইবলিস (শয়তান) সেখানে এসে উপস্থিত হয় এবং তাঁকে উদ্দেশ্য করে কৌতূহলী ও ব্যঙ্গাত্মক সুরে প্রশ্ন করে:

“আপনি কি সেই ব্যক্তি, যে বলে থাকে, দুনিয়ার সবকিছুই তাকদির বা আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত ভাগ্য অনুযায়ী ঘটে?”

হজরত ঈসা (আ.) বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জবাব দিলেন, “হ্যাঁ, আমিই সেই ব্যক্তি।”

নবীর এই জবাবে শয়তান তার কুৎসিত ও সবচেয়ে ভয়ংকর ধোঁকার জালটি বিছিয়ে দেয়। সে উপহাস করে বলে ওঠে:

“যদি তাই হয়, তবে আপনি এই পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে লাফ দিন! আর লাফ দেওয়ার পর বলুন— ‘আমার তাকদিরে এমনই লেখা ছিল!'”

আল্লাহর নবী ঈসা (আ.)-এর বিচক্ষণ জবাব

শয়তানের এই জঘন্য ধৃষ্টতা ও কূপ্ররোচনা দেখে হজরত ঈসা (আ.) অত্যন্ত প্রজ্ঞার সাথে তাকে প্রতিহত করে বললেন:

“হে অভিশপ্ত! মনে রাখিস, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নানাভাবে পরীক্ষা করেন। কিন্তু কোনো বান্দার এই অধিকার নেই যে, সে নিজের ইচ্ছায় বোকামি করে স্বয়ং আল্লাহকে পরীক্ষা করবে!”

এই ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ

১. তাকদির ও বোকামির ফারাক: তাকদির বা ভাগ্যের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখার অর্থ এই নয় যে, মানুষ জেনেশুনে বা খেয়ালের বশে নিজেকে চরম বিপদে বা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবে। তাকদিরের দোহাই দিয়ে নিজের বোকামিকে ঢাক1 ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

২. বুদ্ধি ও বিবেکی ব্যবহার: আল্লাহ তাআলা মানুষকে বিবেক ও সঠিক-ভুলের পার্থক্য করার জন্য সুস্থ বুদ্ধি দান করেছেন। তাই জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে হিতাহিত জ্ঞান বজায় রাখা জরুরি।

৩. শয়তানের চিরন্তন কৌশল: শয়তান মানুষের মৌলিক বিশ্বাস, বিশেষ করে ‘তাকদির’ ও ‘তাওয়াক্কুল’-এর ভুল ব্যাখ্যা ও অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে ধ্বংসের কিনারায় ঠেলে দিতে চায়। ঈমানদারদের এই বিষয়ে সর্বদা সজাগ থাকা উচিত।

মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শয়তানের সমস্ত ধোঁকা ও প্ররোচনা থেকে হেফাজত করুন এবং সঠিক জ্ঞানের ওপর অবিচল রাখুন। আমীন!

(তথ্যসূত্র: মাকাইদুশ শায়তান — ইমাম ইবনে আবিদ্দুনিয়া রহ.)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button