অপরাধ

রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হয়রানির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা মহানগরীর রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হয়রানি, কুৎসা রটনা ও মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রী ১৯৫/১/বি ঠিকানায় একটি ফ্ল্যাট মর্গেজের জন্য ফ্ল্যাটমালিককে বিভিন্ন দফায় মোট ২০ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। টাকা প্রদানের পর ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার বললে ফ্ল্যাটমালিক তাকে বলেন, “ফ্ল্যাট বায়না করা যাবে না।” প্রবাসীর স্ত্রী তখন ফ্ল্যাটের জন্য প্রদত্ত ২০ লক্ষ টাকা ফেরত চাইলে ফ্ল্যাটমালিক তাকে টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন, ভয়ভীতি দেখান, মেরে ফেলবেন বলে হুমকি দেন এবং একপর্যায়ে ওই মহিলার নামে রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের সাথে যোগসাজশে দুটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

নিরাপত্তার কারণে প্রবাসীর স্ত্রী রামপুরা থানায় পরপর তিনটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তবে রামপুরা থানা তিনটি সাধারণ ডায়েরির একটিরও তদন্ত করেনি। মামলায় প্রবাসীর স্ত্রীর বৃদ্ধ পিতা-মাতার নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলার পর ঘটনাস্থল তদন্তের জন্য আইও (তদন্তকারী কর্মকর্তা) পলাশ কুমার ঘোষ এলাকার কারোর সাথে যোগাযোগ করেননি, এমনকি মামলার আসামাকেও মামলার বিষয় জানাননি। প্রবাসীর স্ত্রী জানেন না কবে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলা দেওয়ার পর থেকে অতি দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তবে আদালত থেকে ওয়ারেন্টের খবর পেয়ে তিনি দ্রুত আদালতে হাজির হয়ে সপরিবারে জামিন নিয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে প্রবাসীর স্ত্রীর নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ডিসি মতিঝিল, ডিএমপি সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ফ্ল্যাটমালিক সৈয়দ আজাদ উল্লাহ মামলা দিয়েও ক্ষান্ত হননি। এসআই পলাশ কুমার ঘোষের সহায়তায় ওই মহিলা বর্তমানে যে ফ্ল্যাটে আছেন, সেই ফ্ল্যাটের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন এবং বৈদ্যুতিক প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ যাতে না করতে পারেন, সেজন্য মিটার তালা মেরে রেখেছেন ফ্ল্যাটমালিক সৈয়দ আজাদ উল্লাহ। বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও দুই সন্তান নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং মিথ্যা মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে আদালতে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন। জীবনের নিরাপত্তা ও বিচারের জন্য রামপুরা থানা, ডিসি মতিঝিল, ডিএমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ে বেড়াচ্ছেন। তবে টাকার কাছে তিনি হেরে যাচ্ছেন। রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষ (আইডি বিপি নং ৯০১৯২২৩৫৭৪) তাঁকে বলছেন, “আপনি ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যান, সৈয়দ আজাদ উল্লাহর সাথে পারবেন না; কারণ তিনি ডিসি থেকে শুরু করে থানার ওসি, এসআই—সকলকে ১৫ লক্ষ টাকা ঘুষ হিসেবে দিয়েছেন।”

খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া এলাকা সূত্রে জানা গেছে, এসআই পলাশ সৈয়দ আজাদ উল্লাহর ফ্ল্যাটে গিয়ে প্রায়ই দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় কাটান। তাঁর বাড়িতে ব্যাচেলর দিয়ে ভরপুর। ব্যাচেলর ভাড়াটিয়ারা নিজেদের মধ্যে মারামারি করলে সৈয়দ আজাদ উল্লাহ এসআই পলাশ কুমার ঘোষকে ফোন করলে তিনি সাথে সাথে ঘটনাস্থলে এসে ভাড়াটিয়াদের নিয়ন্ত্রণ না করে প্রবাসীর স্ত্রীকে হুমকি-ধমকি মারেন এবং বলেন, “আপনি কেন মারামারি করছেন?” প্রবাসীর স্ত্রী এর প্রতিবাদ করে ভবনের সিসি ক্যামেরা দেখতে বললে পলাশ কুমার ধমকের সাথে বলেন, “আমি কী দেখব বা না দেখব, তা আপনি বলার কে?”

ফ্ল্যাটমালিক সৈয়দ আজাদ উল্লাহ এবং রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষ মিলে প্রবাসীর স্ত্রীর নামে কুৎসা ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, এসআই পলাশ কুমার ঘোষ প্রবাসীর স্ত্রীর বাসায় গিয়ে বলেন, “আপনার ফ্ল্যাট মর্গেজের ২০ লক্ষ টাকা যদি আমি আদায় করে দিতে পারি, তবে আমাকে কী দেবেন?” জবাবে তিনি কিছু না বললে পলাশ কুমার তাঁকে বাজে ও নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করেন।

অভিযোগ সূত্রে আরও প্রকাশ, রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষ কিছুদিন পরপর প্রবাসীর স্ত্রীর ফ্ল্যাটে রাত ১২:০০ ঘটিকার সময় আসেন, ভয়ভীতি দেখান এবং দরজা খুলতে বলেন। দরজা না খুলতে চাইলে খুলতে বাধ্য করেন। তারপর ভেতরে প্রবেশ করে নোংরা ভাষায় কথা বলেন। যার দরুন বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও দুই সন্তান নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে এলাকার একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, এসআই পলাশ কুমার ঘোষ শুধুমাত্র টাকার জন্য সহায়-সম্বলহীন মানুষদের একের পর এক মামলা দিয়ে জীবন নষ্ট করে দিচ্ছেন। সৈয়দ আজাদ উল্লাহর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রবাসীর পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন। তবে স্থানীয়রা তাঁদের নাম প্রকাশ করতে অপরাগ। তাঁরা বলেন, তাঁদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করলে এসআই পলাশ কুমার ঘোষ তাঁদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে যেকোনো রকমের হয়রানি করতে পারেন। ঢাকা মহানগরীর রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষ থানা এলাকায় একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।

এ ব্যাপারে এসআই পলাশ কুমার ঘোষের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি প্রতিবারই থানায় এসে কথা বলুন—এ কথা বলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পুলিশের একজন কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণ সম্পর্কে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনরা বলছেন, রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের এসব অপকর্ম, আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড ও তাণ্ডব মারাত্মক দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব অপকর্মের কারণে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে গেছে এবং পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে একটি আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিত। বিশিষ্টজনরা আরও বলেন, কোনো অপরাধ সম্পর্কে পুলিশের কাছে ফরিয়াদ করলে যদি পুলিশই ফরিয়াদীর কাছে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?

রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের ব্যাপারে এই প্রতিবেদকের তদন্ত অব্যাহত আছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button