রাজধানী

কোনাপাড়ায় ডিএমপি ওয়ারী বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত,বিএনপি নেতা রিপনের বক্তব্য দেওয়া নিয়ে এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের কোনাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি উদ্যোগে ডেমরা থানাধীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬৪ নং ওয়ার্ডের কোনাপাড়ায় এক বিশেষ কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩১শে অক্টোবর (শনিবার) বিকেল ৩:৩০ মিনিটে কোনাপাড়া বাজারের দরবার শরীফ রোডে অবস্থিত তাসনিম কমিউনিটি সেন্টারে এই সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।”পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অপরাধ প্রতিরোধ এবং পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আলহাজ্ব নবীউল্লাহ নবী, ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি), ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি), ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং কোনাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ। এছাড়াও ওয়ারী বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট থানার বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সমাবেশে অংশ নেন।
অভিযুক্ত নেতার বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য:
এদিকে, অপরাধ প্রতিরোধমূলক এই সরকারি ও সংবেদনশীল মঞ্চে ৬৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন খান রিপনের উপস্থিতি এবং বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সালাউদ্দিন খান রিপনের বিরুদ্ধে ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী থানায় ২৫ থেকে ২৬টি লিখিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো পুলিশের অপরাধবিরোধী একটি সমাবেশে তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় এলাকায় নানা গুঞ্জন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সালাউদ্দিন খান রিপন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, ভূমিদস্যুতা, অবৈধ বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং টেন্ডারবাজির সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। তার ও তার সহযোগীদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলার ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি নারী সদস্যদের ব্যবহার করে নিরীহ ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলা (হানি ট্র্যাপ) এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মামলার হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি ‘চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী কমিটি’ ও পুলিশকে জড়িয়ে তার কিছু বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের পর স্থানীয়দের মাঝে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়। এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে এবং এলাকাকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ডেমরা-যাত্রাবাড়ীর ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button