রাজধানী

খিলক্ষেতে র‍্যাব-পুলিশের যৌথ টিমের ওপর হামলা: বিএনপি নেতা রেনুর বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর খিলক্ষেতে চোরাই মামলার আলামত উদ্ধারে গিয়ে র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ আভিযানিক দলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় খিলক্ষেত থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান রেনুর নেতৃত্বে হামলা, উসকানি প্রদান ও হত্যাচেষ্টার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিন সদস্য আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. সাজু (২৯) নামের এজাহারভুক্ত এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল অভিযুক্ত রেনুসহ অন্যান্য আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা যায়, বোয়ালিয়া মডেল থানায় দায়েরকৃত একটি মামলার (ধারা: দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-এ ধারা) পলাতক আসামি মো. রিয়াজুল ইসলামকে (৪৫) খিলক্ষেতের টানপাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াজুল জানান, মামলার আলামত হিসেবে আট আনা এক পয়েন্ট ওজনের একটি সোনার চেইন খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকার টানপাড়া রোডের ‘অনন্যা জুয়েলার্স’-এ রবীন্দ্রনাথ সরকার নামের এক ব্যক্তির কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে গত দুপুরে চেইনটি উদ্ধারের জন্য র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত ৯ সদস্যের একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই জুয়েলার্সে উপস্থিত হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, জুয়েলার্সে আইনি কার্যক্রম চলাকালে খিলক্ষেত থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান রেনুর নেতৃত্বে মো. সাজু, বাবলুসহ ৭-৮ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা যৌথ আভিযানিক দলটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রেনু উপস্থিত লোকজনকে সোনার চেইন ফেরত না দেওয়ার জন্য উসকানি দেন এবং প্রকাশ্যে ‘ডাকাত, ডাকাত’ বলে চিৎকার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও সংঘবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। আভিযানিক দলের সদস্যরা নিজেদের সরকারি পরিচয় নিশ্চিত করার পরও হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হন।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, অভিযুক্ত রেনু ভারী লোহার রড দিয়ে কনস্টেবল মাহবুবুল হোসেন তপনের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। তপন হাত দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তাঁর ডান হাতের কনুইয়ের নিচে ও হাঁটুতে গুরুতর জখম হয়। তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই আক্রমণ চালানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃত সাজুর বিরুদ্ধে র‍্যাবের ল্যান্স করপোরাল মো. ইসরাইল হোসেনের শার্টের কলার ধরে কিল-ঘুষি, লাথি এবং ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বাবলুর বিরুদ্ধে লাঠি দিয়ে কনস্টেবল গোলাম মোর্শেদকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরিস্থিতি অবনতিশীল হলে অতিরিক্ত আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রেনু ও বাবলুসহ অন্যান্যরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে সাজুকে আটক করা হয়। পরে আহত র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে উত্তরা কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় খিলক্ষেত থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) এ কে এম জামাল উদ্দিন খান বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৮৬, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩ ও ৩০৭ ধারায় বেআইনি জনসমাবেশ, সরকারি কাজে বাধা, সরকারি কর্মচারীদের ওপর আক্রমণ এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খিলক্ষেত থানার ওসি (অপারেশনস) মো. হাফিজুর রহমানকে।

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ওসি (অপারেশনস) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এমন হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছি। এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মিজানুর রহমান রেনু ও বাবলুসহ অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button