দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ধামরাইয়ে মাদকের অবাধ কেনাবেচা
নিজস্ব প্রতিবেদক (ধামরাই): আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ঢাকার ধামরাই উপজেলাজুড়ে সীমান্ত ও মহাসড়কপথে মাদকের অবাধ সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও হাট-বাজারে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল, চোলাই মদ ও রেক্টিফাইড স্পিরিটসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাণঘাতী মাদকের বিকিকিনি অবাধে চলছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় অধিবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার অন্তত অর্ধশতাধিক নির্দিষ্ট স্পট বর্তমানে মাদকসেবী ও কারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, চিহ্নিত এসব স্পটে মাদক কেনাবেচা চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা বা কার্যকর অভিযান চোখে পড়ছে না। এমনকি প্রশাসনের কতিপয় অসাধু সদস্যের যোগসাজশ ও মাসোহারা বাণিজ্যের কারণে এসব অপরাধী প্রকাশ্যে তৎপরতা চালানোর সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ব্যবহার করে নানা কৌশল অবলম্বন করে ধামরাইয়ের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল ও পৌর এলাকায় মাদকের ছোট-বড় চালান প্রবেশ করছে। বিশেষ করে উপজেলার—
- পৌর এলাকা: আইঙ্গন মহাশ্মশান ঘাট, ইসলামপুর, কায়েতপাড়া, বরাতনগর, মডেল টাউন, চন্দ্রাইল ও ঢুলিভিটা।
- ইউনিয়নসমূহ: বালিথা, বাথুলী, আমতা, কুশুরা, কালামপুর, চৌহাট, নান্নার, কাওয়ালীপাড়া ও বারবাড়িয়া এলাকা।
এসব এলাকায় হাত বাড়ালেই মিলছে মারাত্মক সব নেশাদ্রব্য, যার শিকার হয়ে ধামরাইয়ের উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
আসন্ন প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সময় এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে চিহ্নিত স্পটগুলোতে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানানো হয়েছে। ধামরাইয়ের অভিভাবক ও সুশীল সমাজ এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



