আইন-শৃঙ্খলা

অবসরপ্রাপ্ত এএসপির বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

মুহাম্মদ জুবাইর: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মো. মতিন উল্লাহর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও মিরসরাই থানা পুলিশ। ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি এলজি, চার রাউন্ড কার্তুজ, দুটি বড় ছোরা, একটি ট্রাকসহ ডাকাতির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে রাত ৩টার মধ্যে মিরসরাই উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম ওয়াহেদপুরের শেখের তালুক এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

ডাকাত দলের ১৫ থেকে ১৬ জন সদস্য বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। এ সময় বাড়ির মালিক মো. মতিন উল্লাহকে মারধর করে তাঁর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলা হয়। তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে আটকে রাখা হয়।

পরে ডাকাতরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষের আলমারি, ওয়ারড্রোব ও আসবাবপত্র তল্লাশি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর, ডিভিআর, সিপিইউসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৪০ হাজার ১৫০ টাকা।

ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীরা প্রতিবেশীদের সহায়তায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।

ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও মিরসরাই থানা পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্তের ধারাবাহিকতায় ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কুমিল্লার তিতাস থানার মো. রহিম, বরুড়া থানার মো. জামাল প্রকাশ কুদ্দুস, দাউদকান্দি থানার মো. সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সজিব, লাকসাম থানার মো. আনোয়ার হোসেন মিলন এবং একই থানার মো. হানিফ।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রহিমের বিরুদ্ধে চুরি, অস্ত্র, খুন ও ডাকাতিসহ ১০টি মামলা রয়েছে। জামাল প্রকাশ কুদ্দুসের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে চারটি মামলা এবং সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সজিবের বিরুদ্ধে ডাকাতির দুটি মামলা রয়েছে। হানিফের বিরুদ্ধে ডাকাতির চেষ্টার একটি মামলা রয়েছে। অপর গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট একটি এলজি, চার রাউন্ড কার্তুজ, দুটি বড় ছোরা, একটি ট্রাক, সিসিটিভি ক্যামেরার একটি ডিভিআর ও মনিটর, একটি সিপিইউ এবং একটি ভাঙা তালা উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাঁদের সঙ্গে কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত একাধিক সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মতিন উল্লাহ অবসরে যাওয়ার পর পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধা বাবদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পেয়েছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাড়িতে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী পাওয়ার আশায় ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং ডাকাত দলের অন্যান্য অপরাধের তথ্য উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button