অপরাধ

বনানী গেস্ট হাউজে দেহ ব্যবসা ও ডিজিটাল কায়দায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ

আব্দুর রাজ্জাক: রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে একটি গেস্ট হাউজকে কেন্দ্র করে রমরমা দেহ ব্যবসা, মাদক ব্যবসা ও অভিনব কায়দায় ডিজিটাল ছিনতাইয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বনানী ২২ নম্বর রোডের মাথায় অবস্থিত ওই গেস্ট হাউজে এই চক্রটি সক্রিয় থাকলেও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে।

গোপন সূত্র ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বনানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দালাল চক্র অবস্থান করে। তারা পথচারীদের লক্ষ্য করে বলে, “মামা কিছু লাগবে? সব আছে।” এরপর কাস্টমারদের প্রলুব্ধ করতে বলা হয়, “পছন্দ হলে কাজ করবেন, না হলে চলে আসবেন।”

এই কথা বলে কৌশলে কাস্টমারদের ওই গেস্ট হাউজে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভেতরে নেওয়ার পর শুরু হয় আসল ফাঁদ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে থাকা নারীদের দিয়ে জিম্মি করা হয়, মারধর করা হয় এবং পুলিশের ভয় দেখিয়ে সাথে থাকা মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন, স্বর্ণের আংটি, গলার চেইনসহ দামি জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়া হয়।

এমনকি বিকাশসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ভুক্তভোগীর আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আনতে বাধ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগও পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, “কিছুদিন পর পরই ওই গেস্ট হাউজ থেকে মারামারি ও চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ পাওয়া যায়। এলাকার বখাটে ছেলেদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। আমরা সাধারণ মানুষ ভেতরে যেতে পারি না। গেটে জিজ্ঞাসা করা হয়- কোথায় যাবেন, কার কাছে যাবেন? সঠিক উত্তর দিতে না পারলে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয় না।”
তাদের আরও অভিযোগ, দালাল চক্রটি অনলাইনের মাধ্যমেও কাস্টমার সংগ্রহ করে এবং স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ে, ভাবি পরিচয়ে নারী সরবরাহ এবং গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন, বিয়ার, বিদেশি মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সরবরাহের প্রলোভন দেখায়।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সোসাইটির তরুণ প্রজন্ম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে, বাবা-মায়ের অবাধ্য হচ্ছে এবং গভীর রাত করে বাড়ি ফিরছে। এতে পুরো এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও ছেলেমেয়েদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
মূল হোতা কে?

এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী, এই পুরো চক্রের মূল হোতা হোসাইন নামে এক ব্যক্তি। তার একটি সংঘবদ্ধ গ্যাং রয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেউ এর প্রতিবাদ করলে বা তার বিরুদ্ধে মুখ খুললে মিথ্যা মামলা দেওয়া, হাত-পা ভেঙে দেওয়াসহ নানা ধরনের অত্যাচার ও হুমকি দেওয়া হয়। তাই ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

এ বিষয়ে বনানী থানার বাসিন্দারা দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রশ্ন, “এতদিন ধরে প্রকাশ্যে এমন ব্যবসা চললেও প্রশাসন কেন নীরব? হোসাইনের খুঁটির জোর কোথায়?”
এ বিষয়ে বনানী থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী আশা করছেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button