বায়েজিদ বাংলাবাজারে সিটি কর্পোরেশনের নালা দখল করে টংদোকান নির্মাণ চক্রে চাঁদাবাজি সন্ত্রাস

মুহাম্মদ জুবাইর
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী মেয়রের হস্তক্ষেপ চাইছেন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও জনদুর্ভোগ রোধে
০২/০২/২০২৪ চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজীদ বোস্তামী থানাধীন বাংলাবাজার মোড়ে সিটি কর্পোরেশনের নালা অবৈধভাবে দখল করে টংদোকান নির্মাণ এবং ভাড়া দিয়ে চাঁদাবাজি চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসী জানিয়েছেন,চিহ্নিত কয়েকজন দুষ্কৃতকারী দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি, রাস্তা ও নালা দখল করে একের পর এক দোকান নির্মাণ করছে এবং সেগুলো থেকে ভাড়া নিয়ে অবৈধ অর্থ উপার্জন করছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, এসব স্থাপনার কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। ফলে নগরের পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, জনসাধারণের চলাচলের পথ সংকুচিত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, নালার পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হলে দোকান, বাসাবাড়ি এবং রাস্তা ডুবে যাবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা কোনো বৈধ পেশায় জড়িত নয়। তারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে। যারা প্রতিবাদ করে তাদের হুমকি দেওয়া হয়। এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাদ্দাম, সাইফুল ও রাজু নামের তিন ব্যক্তি এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন। সাদ্দামের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাদ্দাম রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আবারও এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে চাচ্ছে এবং তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছে সাইফুল ও রাজু।
স্থানীয়রা আরও জানায়, সাদ্দামের নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। কিশোরদের ব্যবহার করে দখলবাজি, চাঁদাবাজি, মারামারি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন চালানো হচ্ছে। এতে সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা ছোট ব্যবসা করে পরিবার চালাই। কিন্তু এই সন্ত্রাসীরা নিয়মিত চাঁদা দাবি করে, না দিলে দোকান ভাঙচুর ও মারধরের হুমকি দেয়। প্রশাসনের কাছে গেলে বিপদ আরও বাড়ে। আরেক ব্যবসায়ী বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নালার ওপর দোকান বানানো মানে পুরো এলাকার সর্বনাশ। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। যদি নালার প্রবাহ বন্ধ হয়, তাহলে বসবাসও অসম্ভব।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের অঘটন বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে। তারা জানান, সাধারণ মানুষ এখন ক্ষোভে ফুঁসছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।
বাংলাবাজার এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়রের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নালা ও রাস্তা দখলমুক্ত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা মনে করেন, নগরের সৌন্দর্য, পরিবেশ ও নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দখলবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা জরুরি। তারা একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কেউ সিটি কর্পোরেশনের নালা ও রাস্তা দখলের সাহস না পায়, তার জন্য কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান চালানোরও দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী বলেন, আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই, উন্নয়ন চাই। কিন্তু দখলদার ও সন্ত্রাসীদের কারণে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া বাংলাবাজার এলাকার জনভোগান্তি ও অরাজকতা রোধ সম্ভব নয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে বাংলাবাজার মোড়ের নালা, রাস্তা ও জনস্বার্থ রক্ষা পাবে এবং নগরের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।


