রাজনীতি

কুড়িগ্রামে  বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা কারাগারে বাকিদের জামিন মন্জুর

শাহ জামাল শাওন | কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় বিএনপির এক নেতার দায়ের করা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রাজারহাট আমলি আদালতের বিচারক মো. মমতাজুল করিম এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো নেতা হাসান জিহাদী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম দেবত্তর গ্রামের বাসিন্দা রাজিকুল ইসলামের ছেলে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ সরিষাবাড়ী এলাকায় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসান জিহাদী ও তাঁর সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করেন। পরে শহিদুল ইসলাম রাজারহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসান জিহাদীর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, গত সপ্তাহে উচ্চ শব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এতে এলাকার বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন। এ বিষয়ে হাসান জিহাদী আপত্তি জানালে শহিদুল ইসলাম ও তাঁর লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালান। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে নিজেদের বাড়ির আসবাবপত্র এলোমেলো করে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

রাজারহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল ওয়াদুদ বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধকে কেন্দ্র করে শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে হাসান জিহাদীসহ প্রায় ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। রোববার হাসান জিহাদী আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামিদের পক্ষে মামলার জামিনের প্রার্থনা করেন কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সরদার তাজুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট আহমদ আলী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button