অনুসন্ধানঅপরাধএক্সক্লুসিভজাতীয়প্রশাসনবরিশালবরিশাল বিভাগবাংলাদেশবিভাগবিশেষ প্রতিবেদন

ব্যবসায়ীদের রেখে কেনো ধরা হচ্ছে মাদক সেবীদের! কোন পথে ডিসি মাসুদ?

নূর হোসেন ইমাম ( অনলাইন এডমিন)‎:

দেশজুড়ে মাদক বিরোধী অভিযান ও গ্রেপ্তার সংখ্যা বাড়লেও বিচারিক পথ, বাহিনীর ভূমিকা এবং বড় র্পযায়ের সরবরাহকারীদের ধরতে সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক তদন্ত ও পরিসংখ্যানগুলো মাদকবার্তা সেবি বা ক্ষুদ্র কারবারিদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক বেশি, অথচ কার্যকর মামলা ও সাজা খুব কম হওয়ায় ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ‎‎‎

একটি নাম্বার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে প্রায় ৫০০টি মাদক মামলা (২০০৫–২০২১ ফাইল করা) বিচার শেষে আউটকাম বিশ্লেষণ করলে ৫৯ শতাংশ মামলায় (২৯৬টি) আসামিকে অব্যাহতি বা রায় প্রমাণ করা যায়নি, এবং শুধু ৪১ শতাংশ (২০৪টি) মামলায় conviction বা দণ্ডবিধি হয়েছে। এই পরিসংখ্যান জনগণের কাছে প্রশ্ন তোলে গ্রেপ্তারের পর সত্যিকারের বিচার হয় কি?‎‎‎আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৩ সালে Rapid Action Battalion প্রায় ৯,৯৩৯ জন সন্দেহভাজন মাদক বেপারিকে গ্রেপ্তার করেছে, এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন, ফেন্সিডিলসহ অন্যান্য মাদক জব্দ করেছে। অপরদিকে গত বছরের ২০২৫-এর অভিযানে যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে শতাধিক গ্রেপ্তার ও মাদক জব্দের ঘটনা জানা গেছে, যেমন টঙ্গিতে ১৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‎‎

এগুলোর প্রেক্ষাপটে দেখা যায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বড় অংশ হচ্ছে সেবি বা ক্ষুদ্র ক্রেতা যা আইনশৃঙ্খলা প্রণোদিত ট্রাফিকের সবচেয়ে নিচের তলায় অবস্থিত। কিন্তু পরের ধাপে ‘বড় চেইন’কে ধরার বা বিচারের দিকে যথেষ্ট অগ্রগতি দেখা যায় না।‎‎ অভিযান ও জব্দ‎বর্ডার ও কুরিয়ার পদ্ধতিতে বড় মাপের মাদক চক্রের মতো ঘটনাও সমান ভাবে ঘটছে।

২০২৫ সালে টঙ্গির ফেডএক্স কুরিয়ার সার্ভিস থেকে প্রায় ৬.৪৪ কেজি কেটামিন (আনুমানিক কোটি টাকার বেশি মূল্য) জব্দ ও সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে যা আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের সঙ্গে জড়িত বলে দাবী করা হয়। ‎‎বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্তে বড় মাপের ইয়াবা ও আইস জব্দ করেছে যেমন ২০২৩ সালে টেকনাফে ২.১৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ ও ১৯,৪০০ পিস ইয়াবা জব্দ এবং একজনকে আটক করে।

‎‎ বাস্তব তথ্য ও অভিযোগ এবং‎প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ বছরে ঢাকা মহানগরীতে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ২৮ জন পুলিশ সদস্যকে মাদক সম্পর্কিত মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে সাব-ইনস্পেক্টর, সহকারী সাব-ইনস্পেক্টর ও কনস্টেবলও রয়েছে। ‎সাম্প্রতিক পুলিশ সদর দফতরের বৈঠকে এমনই মন্তব্য এসেছে কিছু পুলিশ কর্মকর্তারা নিজেরাই স্বীকার করেছেন যে নিযুক্ত বা ট্রান্সফার পেতে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করতে হয়, এবং পরে সেই টাকা ‘রিকভার’ করতে তারা অপরাধ মূলক ব্যবসায় জড়িত হতে পারে।

যদিও এটি একটি ভিতরের বৈঠক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের স্বীকারোক্তি জনদ্বার বিশ্বাসযোগ্যতা ও নৈতিকতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে।‎বিশ্লেষকরা মনে করেন গ্রেপ্তার সংখ্যার পিছনে বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা ও পরবর্তীতে সাজা না হওয়া, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনবিশ্বাস কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, বিচার কার্যকারিতা বৃদ্ধি, পুলিশের নিয়োগ-ট্রান্সফার সিস্টেমে স্বচ্ছতা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।‎আইন বিশ্লেষকরা প্রস্তাব করেন‎অভিযানের তথ্য, গ্রেপ্তার সংখ্যা ও জব্দকৃত মাদক আদায়ে স্বচ্ছ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা,‎বিচারের পর্যায়ে যুক্তিসঙ্গত সুপেয় সাক্ষ্য ও প্রমাণ সংগ্রহে মনোযোগ দেওয়া, এবং‎পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তর্বিভাগীয় দুর্নীতি দূরীকরণে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গঠন করা।‎‎

মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ভৌতিক পরিসরে চোখে পড়লেও গ্রেপ্তার-পরবর্তী বিচার, বড় চক্র ধরার সক্ষমতা ও বাহিনীর ভেতরে দুর্নীতি-সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর কারণে কার্যকর নীতি সফল হচ্ছে কি, তা যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ। দেশের মাদকযুদ্ধ শুধুমাত্র ‘কম সেবি’কে ধরেই অগ্রসর হলে বড় সরবরাহকারীদের ঘাঁটি ও অর্থনৈতিক পেছনের চেইন অনছুমেলেই থেকে যাবে।

কোন পথে ডিসি মাসুদ? সেই প্রশ্ন উত্তরের খোঁজে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button