
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন,প্রেস ক্লাবকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ফিরিয়ে আনা হবে
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আজ বুধবার বিকাল সোয়া তিনটায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পরিচালনা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান গঠনতান্ত্রিক উপায়ে করার আশ্বাস দেন। মন্ত্রী বলেন,চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান, যেখানে পরিচালনা সংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে, কিন্তু নিয়মের মধ্যে থেকে সমস্যা সমাধানে আমি সহযোগিতা করব।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে)নেতা ও সর্বস্তরের সাংবাদিকরা।মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রম জানি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পরিচালনার নির্দিষ্ট নিয়মকানুন থাকে। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পরিচালনায় যেসব ব্যত্যয় ঘটেছে তা চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে।
আমি অনতিবিলম্বে চট্টগ্রামের মুরব্বী,অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর সঙ্গে পরামর্শ করে একটি গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধিদল ঢাকায় ডাকব এবং প্রেস ক্লাবের উদ্ভুত সমস্যা সমাধান করব ইনশাল্লাহ।
মন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তির ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের উপরে প্রবল হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের দেশে নানা সংকটের মূল কারণ হলো রাষ্ট্রকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় দাঁড় করাতে না পারা। ব্যক্তির ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের উপরে গেলে প্রতিষ্ঠানই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বে ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় আনতে কাজ করছি। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকেও প্রাতিষ্ঠানিক ধারায় নিয়ে আসাই আমাদের লক্ষ্য।
সভায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘৫ আগস্ট স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কতিপয় দুর্বৃত্ত হামলা ও গঠনমূলক বাধার মাধ্যমে প্রেস ক্লাব দখল করে। পরে প্রশাসনের একটি চিঠি ছাড়া অবৈধ অন্তবর্তী কমিটি গঠন করা হয়। গত দেড় বছর ধরে দখলদাররা প্রেস ক্লাবে জুয়ার আসর পরিচালনা করছে,যা সাম্প্রতিক সময়ে সরকার উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে বন্ধ করেছে। ২৮৪ জন সদস্যের মধ্যে ৯০ শতাংশ সদস্য ক্লাবে যেতে পারছেন না।’
সভায় প্রেস ক্লাব সভাপতি তথ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান, ‘গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, স্থায়ী সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক এবং তারা প্রেস ক্লাব পরিচালনা করবে।’ চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘দাবি একটাই, প্রেস ক্লাব জিম্মি মুক্ত করে পেশাদার সাংবাদিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের তালাবদ্ধ কার্যালয় খোলা হোক।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি মনজুর কাদের,সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন হায়দার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খোরশেদুল আলম শামীম, সদস্য মোয়াজ্জেমুল হক, জসীম চৌধুরী সবুজ, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি শহীদ উল আলম, যুগ্ম সম্পাদক মহসীন কাজী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি সাইদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ, যুগ্ম সম্পাদক মো. ওমর ফারুক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য আহসান হাবিবুল আলম, চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক যীশু রায় চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক পূর্বকোণের সিটি এডিটর নওশের আলী খান, অঞ্জন সেন, এম নাসিরুল হক, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, বার্তা সম্পাদক ওমর কায়সার, দৈনিক সমকালের ব্যুরো প্রধান সারোয়ার সুমনসহ অনেকে।
মন্ত্রী এবং সাংবাদিকরা একমত হন যে, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার মধ্যে ফিরিয়ে আনা জরুরি। তারা সিদ্ধান্ত নেন, সব মত ও চিন্তাকে সম্মিলিত করে প্রেস ক্লাবের নেতৃত্ব নির্ধারণ ও কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা হবে। সভার শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের আশ্বাস দেন যে, সমস্যা সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাংবাদিক সমাজের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব ব্যক্তি নির্ভর না হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকানুনের ওপর নির্ভর করা উচিত। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকেও আমরা সেই পথে নিয়ে যেতে চাই। আমি আপনাদের সহযোগিতা এবং অংশগ্রহণ চাই।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, তারা সম্মিলিতভাবে গঠনতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেস ক্লাবকে পুনর্গঠন করবেন। সাংবাদিক সমাজ আশা করছে, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পেশাদারিত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্লাব পুনরায় তার ঐতিহ্য রক্ষা করবে এবং সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।



