প্রতিমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে বেপরোয়া মাহামুদুল হাসান: নেতাকর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

বর্তমান সরকারের রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব-এর নাম ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগ উঠেছে মোঃ মাহামুদুল হাসান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নিজেকে প্রতিমন্ত্রীর ‘ব্যক্তিগত পেজ সচিব’ দাবি করে তিনি বিভিন্ন মহলে দাপট দেখিয়ে নিজের ফায়দা হাসিল করছেন বলে জানা গেছে।
দোহাই দেন প্রতিমন্ত্রীর আদেশের: অনুসন্ধানে জানা যায়, মোঃ মাহামুদুল হাসান নিজেকে দৈনিক আলোকিত সকাল পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিলেও তার মূল তৎপরতা মূলত প্রতিমন্ত্রীর পরিচয়কে ঘিরে। বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি বা সরকারি অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর আশেপাশে থাকার সুবাদে তিনি অন্য নেতাকর্মীদের সাথে চরম অসদাচরণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে আসা বা পাশে দাঁড়াতে চাওয়া তৃণমূলের নেতাকর্মীদের তিনি অত্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন এবং অনেক সময় গায়ে ধাক্কা দিয়ে নিচ থেকে সরিয়ে দেন। কেউ এই আচরণের প্রতিবাদ করলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন— “এটি মন্ত্রীর আদেশ।” অথচ প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ ও ত্যাগী কর্মীদের সাথে এমন দূরত্ব বজায় রাখার কোনো নির্দেশনা কখনোই ছিল না।
প্রভাব খাটিয়ে ফায়দা হাসিল: সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, মাহামুদুল হাসান নিজেকে প্রতিমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর ফেসবুক পেজসহ ব্যক্তিগত কার্যক্রমের দেখভালকারী (সচিব) হিসেবে উপস্থাপন করে বিভিন্ন দপ্তরে তদবির বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারে লিপ্ত রয়েছেন। তাঁর এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনামও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
বিভ্রান্তিতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী নেতা জানান, মাহামুদুল হাসান নিজেকে প্রতিমন্ত্রীর ‘ছায়াসঙ্গী’ হিসেবে জাহির করে বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তাঁর ঔদ্ধত্য এবং নেতাকর্মীদের গায়ে হাত তোলার মতো ধৃষ্টতা বর্তমানে সকল মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
কর্তৃপক্ষের অবস্থান: সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী ‘পেজ সচিব’ নামে কোনো পদের অস্তিত্ব নেই। ব্যক্তিগত স্বার্থে বা কাউকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। সাংবাদিকতার আড়ালে এ ধরণের অপতৎপরতা বন্ধে এবং অভিযুক্ত মোঃ মাহামুদুল হাসানের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।



