ইসলাম ধর্ম

‘ইক্বামাতে দ্বীন’ ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠন: একটি আদর্শিক পর্যালোচনা

ইসলামিক বিচিত্রা ডেস্ক: ইসলামী জীবনবিধানের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের মূলনীতিগুলো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ইক্বামাতে দ্বীন’ বা দ্বীন কায়েমের গুরুত্বকে একটি অপরিহার্য ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনার আলোকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংস্কারের পাশাপাশি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট চিন্তাবিদগণ।

কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ধর্মীয় বিধান

ইসলামী বিধি-বিধানে কেবল ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, বরং সামাজিক শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে নামাজ কায়েম, যাকাত প্রদান এবং পারিবারিক জীবনে পর্দার বিধান পালনের পাশাপাশি চারিত্রিক শুদ্ধি অর্জনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সুদ, ঘুষ, ব্যভিচার ও ওজনে কম দেওয়ার মতো সামাজিক ব্যাধিগুলোকে কঠিন গুনাহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই বিধানগুলো কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং বাস্তব জীবনে এগুলোর প্রয়োগই হলো দ্বীন প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্ব

একটি আদর্শ সমাজ গঠনে ইসলামের অর্থনৈতিক ও বিচারিক ব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। ইসলামী আইনের মূল লক্ষ্য হলো শোষণমুক্ত সমাজ গঠন। এক্ষেত্রে সুদমুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং চুরির মতো অপরাধের কঠোর দণ্ডবিধি মূলত জননিরাপত্তা ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার জন্যই নির্ধারিত। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রচলিত আইন ও বিচার ব্যবস্থায় ইসলামের এই সুমহান আদর্শের অনুপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে নৈতিক অবক্ষয় ও অস্থিরতা তৈরি করছে।

সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা ও সাংগঠনিক রূপরেখা

দ্বীন প্রতিষ্ঠার এই সুমহান লক্ষ্য একক প্রচেষ্টায় অর্জন করা দুরূহ বিধায় কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী সম্মিলিত বা জামাতবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ একটি সুসংগঠিত দল হিসেবে কাজ করার কথা উল্লেখ করেছে। তাদের লক্ষ্য ও আদর্শের মধ্যে রয়েছে:

  • আদর্শিক ভিত্তি: কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে জীবন পরিচালনা এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ বিশ্বাসের ওপর অবিচল থাকা।
  • উদ্দেশ্য: নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাংলাদেশে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
  • স্থায়ী কর্মনীতি: যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া।

উপসংহার

দ্বীন প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করাকে পরকালীন মুক্তির একমাত্র পথ হিসেবে গণ্য করা হয়। ইসলামী দাওয়াতকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের মাধ্যমে একটি আদর্শিক সমাজ বিনির্মাণই এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি। সংশ্লিষ্টদের মতে, মানুষের তৈরি আইনের চেয়ে আল্লাহর নাজিলকৃত বিধানের অনুসরণই দেশ ও জাতির জন্য প্রকৃত কল্যাণ বয়ে আনতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button