অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিবহন চালক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোস্তাজাবুল হকের বিরুদ্ধে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই বছরের পর বছর গাড়ি চালক পদে চাকরি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত বছর লাইসেন্স প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় তার কাছ থেকে সরকারি গাড়িটি সরিয়ে নেওয়া হলেও, তিনি রহস্যজনকভাবে এখনও চাকরিতে বহাল রয়েছেন এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ মে ২০২৫ তারিখে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সকল গাড়ি চালকের কাছ থেকে তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স তলব করে। নির্ধারিত সময়ে অন্য চালকরা লাইসেন্স জমা দিলেও মোস্তাজাবুল হক তা দিতে ব্যর্থ হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ মে ২০২৫ তারিখে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ তার অধীনে থাকা কন্টেইনার ক্যারিয়ার গাড়িটি (নম্বর: ১৩-০৪৮৩) জব্দ করে অন্য একজন চালকের জিম্মায় বুঝিয়ে দেয়।
পরিবহন বিভাগ থেকে মোস্তাজাবুল হকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষে ১৬ জুন ২০২৫ তারিখে সচিব দপ্তরে একটি আনুষ্ঠানিক নোট পাঠানো হয়। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গাড়ি চালক হিসেবে নিয়োগ পেলেও তার কাছে কোনো বৈধ পেশাদার লাইসেন্স নেই। এমনকি তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়েও সহকর্মীদের মধ্যে নানা সংশয় ও প্রশ্ন রয়েছে।
সহকর্মী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, চালক হিসেবে অযোগ্য প্রমাণিত হওয়ার পরও মোস্তাজাবুল হকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো বিভাগীয় বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গাড়ি চালানোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তিনি নিয়মিতভাবে অফিস করছেন না, অথচ প্রতি মাসে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন নিচ্ছেন। একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে কীভাবে লাইসেন্স ছাড়া বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করলেন এবং বর্তমানে কাজ না করেও কীভাবে বেতন পাচ্ছেন, তা নিয়ে ডিএনসিসির পরিবহন বিভাগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. মোস্তাজাবুল হকের সঙ্গে একাধিকবার টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডিএনসিসির মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) আব্দুল্লাহ আল মাসুদের মুঠোফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ডিএনসিসির সাধারণ চালক ও কর্মচারীদের দাবি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মোস্তাজাবুল হকের নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম খতিয়ে দেখা হোক। লাইসেন্সবিহীন চালকের কারণে সড়কে যে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছিল এবং বর্তমানে সরকারি অর্থের যে অপচয় হচ্ছে, তার প্রতিকারে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।



