একটি খেজুরের আঁটিতে লুকিয়ে আছে গভীর তত্ত্ব
ইসলামিক ডেস্ক: পবিত্র কুরআন মাজিদের প্রতিটি শব্দ ও উপমা অত্যন্ত সুগভীর এবং নিখুঁত। আল্লাহ তাআলা মানুষের উপলব্ধি ও চিন্তাশক্তিকে শাণিত করার জন্য প্রকৃতি ও চারপাশের অতি সাধারণ জিনিসের মাধ্যমেও মহান সব বার্তা প্রদান করেছেন। এর একটি অনন্য উদাহরণ হলো খেজুরের আঁটির সাহায্যে দেওয়া তিনটি বিশেষ উপমা—ক্বিতমির, ফাতিল এবং নাক্বির।
একটি সাধারণ খেজুরের আঁটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এটি একটি অত্যন্ত পাতলা ও স্বচ্ছ আবরণে ঢাকা থাকে। পবিত্র কুরআনের সূরা ফাতিরের ১৩ নম্বর আয়াতে এই আবরণটিকে ‘ক্বিতমির’ (قطمير) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “আর তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ডাকো, তারা খেজুরের তুচ্ছ আঁটির আবরণেরও (ক্বিতমির) অধিকারী নয়।” অর্থাৎ, যাদের উপাসনা করা হয়, তাদের ক্ষমতা এতই তুচ্ছ যে একটি আঁটির পাতলা খোসার ওপরও তাদের কোনো কর্তৃত্ব নেই।
আঁটিটির পেটের দিকের কাটা অংশ বা খাঁজটি লক্ষ্য করলে সেখানে একটি অতি সূক্ষ্ম সুতার মতো অংশ দেখা যায়। কুরআন মজিদে একে বলা হয়েছে ‘ফাতিল’ (فتيلا)। সূরা বনী ইসরাইলের ৭১ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, “যাদের ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে, তারা তা পাঠ করবে এবং তাদের প্রতি ‘ফাতিল’ বা সুতা পরিমাণও জুলুম করা হবে না।” অর্থাৎ বিচার দিবসে মানুষের ক্ষুদ্রতম ভালো কাজেরও যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।
আবার আঁটির ঠিক উল্টো দিকে লক্ষ্য করলে একটি অতি ক্ষুদ্র বিন্দু বা ছিদ্র দেখা যায়। একে কুরআনের ভাষায় বলা হয় ‘নাক্বির’ (نقيرًا)। সূরা আন-নিসার ১২৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, মুমিন অবস্থায় কোনো নারী বা পুরুষ যদি সৎকর্ম করে, তবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি ওই ‘নাক্বির’ বা ক্ষুদ্র বিন্দু পরিমাণও অবিচার করা হবে না।
খেজুরের এই অতি সাধারণ আঁটির ব্যবচ্ছেদ করলে দেখা যায়, মহান আল্লাহ প্রতিটি অতি ক্ষুদ্র অংশকেও ভিন্ন ভিন্ন নামে অভিহিত করেছেন এবং সেগুলোকে মানুষের কর্মফল ও আল্লাহর একচ্ছত্র ক্ষমতার উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কুরআনের এই বর্ণনা যেমন নিখুঁত, তেমনি এটি একজন মুমিনের ঈমানকে দৃঢ় করতে এবং আল্লাহর সৃষ্টির গভীরতা অনুধাবনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নিদর্শনের মাঝেই লুকিয়ে আছে স্রষ্টার অসীম মহিমা।



