বেনাপোলে সাংবাদিক রাব্বির ওপর হামলা, বুক ফুলিয়ে ঘুরছে হামলাকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের বেনাপোলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক জিসান আহম্মেদ রাব্বির ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মূল আসামিদের গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন News Portal Journalists Association (NPJA) এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জিসান আহম্মেদ রাব্বি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজের শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি এবং বন্দর প্রেসক্লাবের আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার ভবেরবেড় গ্রামের বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী শাহাদুর রহমান খোকনের ছেলে জিসান আহম্মেদ রাব্বি সাংবাদিকতা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি পারিবারিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার দায়িত্ব নিতে বেনাপোলে ফিরে এসে সাংবাদিকতা ও ব্যবসা দুটোই পরিচালনা করছিলেন।
সম্প্রতি আমড়াখালী এলাকার হক ফিলিং স্টেশনে ট্রাকের তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় একদল যুবকের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। ওই তুচ্ছ ঘটনাই পরে ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, পান্তাপাড়া গ্রামের তরিকুল ইসলাম রাজু, মান্দারতলা গ্রামের আব্দুল্লাহ, কাগমারি আমড়াখালী গ্রামের হাসান, আজগর আলীর ছেলে মোস্তাক, ইউনুস আলীর জামাই হাসানসহ ৮–১০ জন যুবক একত্রিত হয়ে সাংবাদিক জিসান আহম্মেদ রাব্বির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
তারা তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং তার কাছ থেকে ৬৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
ঘটনার পর সাংবাদিক জিসানের ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার স্টাফ সোহাগ হোসেন বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেন। পরে পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে (মামলা নং ১৪/২৬, তারিখ: ২২-০৪-২০২৬) এবং তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এসআই মিলন হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে এক মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিলন হোসেন মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জিসান আহম্মেদ রাব্বি ও তার পরিবারের অভিযোগ, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।
এতে করে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। স্থানীয় পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ও উদ্বেগ বাড়ছে।
বেনাপোল বন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ কাজিম, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান যৌথভাবে জানান, সাংবাদিকের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলেন, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার না করা হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন News Portal Journalists Association (NPJA) এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিলন হোসেন বলেন, আসামিরা আদালত থেকে আগাম জামিনে থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ মনে করছে, এ ধরনের ঘটনার দ্রুত বিচার না হলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও ন্যায়বিচার নিয়ে আস্থা হারাতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সব মিলিয়ে বেনাপোলের এই সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা এখন শুধু স্থানীয় ইস্যু নয়, বরং সাংবাদিক নিরাপত্তা ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন হিসেবে সামনে এসেছে।



