অপরাধ

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার রোমানা: রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ৩৪ নং ওয়ার্ড ও রায়েরবাজার এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, হামলা, মাদক ব্যবসা এবং কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা মোঃ সোহেল হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের সামনে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও এত মাত্রায় চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়নি। বর্তমানে মোহাম্মদপুর ও রায়েরবাজার এলাকার গেন্ডারী বিক্রেতা, ফুটপাতের চটপটি-ফুচকা ব্যবসায়ী, টং দোকানদার, টায়ার ও হাওয়া ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণির ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একজন গেন্ডারী বিক্রেতা জানান, তিনি গেন্ডারী বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন, কিন্তু যুবদল নেতা সোহেল হাওলাদার বিভিন্ন সময় দলবল নিয়ে এসে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন—“আমি আমার সংসার চালাই কষ্ট করে, কোথা থেকে চাঁদা দেব?
আরেকজন ফুটপাতের চটপটি-ফুচকা ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তার দোকান ও কারখানা থেকে প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে টাকা দিতে দেরি হলে যুবদলের নেতাকর্মীরা এসে তার কারখানা বন্ধ করে দেয় বলেও দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় এক টং দোকানদার, যিনি টায়ার ও হাওয়ার ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন, জানান তার কাছ থেকেও প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মোঃ সোহেল হাওলাদারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং পরিচালনা এবং এলাচ গ্রুপ” নামে পরিচিত একটি ভয়ঙ্কর গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তার নিজস্ব বাহিনী রয়েছে, যারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুললে তাকে ভয়ভীতি, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রায়েরবাজার ও মোহাম্মদপুরের সাধারণ মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা ,চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত নিরাপদ মোহাম্মদপুর গড়তে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button