
নিজস্ব প্রতিবেদক: অপরাধ বিচিত্রা পত্রিকায় ৫ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে চান্দগাঁওয়ে মব সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে চরম উত্তেজনা শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ।
আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী আহমদ কবির, একজন রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তি ও সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দুঃসময়ের একজন কর্মী হিসেবে আমি সর্বমহলে পরিচিত। এছাড়াও একজন সামাজিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমাজের বিভিন্ন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছি।
সাম্প্রতিক সময়ে রাউজানের এমপি ফজলে করিম জুনুর এজেন্ট এবং অবৈধ মেয়র রেজাউল করিমের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত আব্দুল বাতেন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে “ওয়াহিদ ইলেকট্রিশিয়ান্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন” নামক একটি কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে বিগত সরকারের প্রভাব খাটিয়ে পকেট কমিটি গঠন করে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সম্পত্তি আত্মসাতের অপচেষ্টা চালায়। এ বিষয়ে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
সামাজিক বিচারের পূর্বে আব্দুল বাতেন সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে, তিনি একজন দুর্ধর্ষ প্রতারক ও মামলাবাজ ব্যক্তি। মানুষকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করে অর্থ আত্মসাৎ করাই তার মূল উদ্দেশ্য।
আব্দুল বাতেনের নিকট আত্মীয় জামশেদ চৌধুরী আমাকে জানিয়েছিলেন, “আব্দুল বাতেনের মতো প্রতারক পৃথিবীতে খুব কম আছে। স্বয়ং শ্বশুরসহ নিকট আত্মীয়রাও তার প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পাননি।”
এ ধরনের তথ্য জানার পর আমি তার অন্যায় কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানাই। এরই জের ধরে আব্দুল বাতেন আমাকে এবং আরও কয়েকজন সম্মানিত ব্যক্তিকে টার্গেট করে পত্রিকায় মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে, যার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আমি একজন সাংবাদিকবান্ধব ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন ব্যক্তি। প্রকৃত সাংবাদিক সমাজ আমাদের দেশের বিবেক ও সমাজের দর্পণ। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে খুব শীঘ্রই সাংবাদিক সমাজের সামনে আব্দুল বাতেনের এতিমের অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অপকর্মের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।
আমি জীবনে কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করিনি এবং ভবিষ্যতেও করবো না। আগামীতে এ ধরনের অপপ্রচার ও অপসংবাদ প্রচার করা হলে আমি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হব।
এছাড়াও, আব্দুল বাতেন অর্থ আত্মসাতের লক্ষ্যে এতিমখানা ট্রেনিং সেন্টার বন্ধ করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করে সামাজিক জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান বিনষ্ট করেছে।
শুধু তাই নয়, নির্বাচনের পূর্বেও তিনি বিএনপির এক এমপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে মানহানির চেষ্টা করেছেন। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় ধৈর্য ধারণ করেছি; তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
পলাতক আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে আব্দুল বাতেন আত্মগোপনে রয়েছেন। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন জনকে প্রভাবিত করে পুনরায় “ওয়াহিদ ইলেকট্রিশিয়ান্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন”-এর সম্পত্তি দখল করে দ্বিতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর এবং পরবর্তীতে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছে বলে আমি জানতে পেরেছি।
এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার,দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এন এস আই) কে লিখিত আকারে অবহিত করা হয়েছে ও তদন্ত চলমান রয়েছে । ইলেকট্রিশিয়ানদের কল্যাণ ও জনস্বার্থে আব্দুল বাতেনের আত্মসাৎকৃত অর্থ পুনরুদ্ধার ও গঠিত পকেট কমিটি বাতিল করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি রক্ষার জন্য রাষ্ট্রের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
নিবেদক
আহমদ কবির
সাবেক নির্বাহী সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি
রাজনৈতিক সচেতন সমাজকর্মী ও ব্যবসায়ী



