পতেঙ্গায় বিপুল ইয়াবাসহ বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা ৪১ নং ওয়ার্ডের আলোচিত বিএনপি নেতা মো. জিয়া ওরফে জিয়া মিয়াকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত ১০ মে তার নিজ বাসভবনে অভিযান চালিয়ে এই মাদক উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় উদ্ধারকৃত ইয়াবার প্রকৃত সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর জন্য নেপথ্যে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পতেঙ্গা এলাকায় ডা. নুরু্ল আবসারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত জিয়া মিয়ার তিন তলা ভবনে দীর্ঘ চার ঘণ্টা অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় ডবলমুরিং থানায় গত ১১ মে একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-০৯)। মামলায় ৬ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের সময় উদ্ধারকৃত ইয়াবার পরিমাণ ছিল প্রায় এক লাখ পিসেরও বেশি।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, বিপুল পরিমাণ এই মাদকের চালান উদ্ধারের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই ডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে ১০-১২ লক্ষ টাকার সমঝোতা বৈঠক হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জিয়ার ভাই এক যুবলীগ ক্যাডার এবং স্থানীয় ৪১ নং ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক নাজিম চৌধুরী ও ডা. আফসার এই লিয়াজোঁতে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যস্থতায় ইয়াবার পরিমাণ কমিয়ে মামলা নথিবদ্ধ করা হয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
জিয়া মিয়ার বিরুদ্ধে ডুরিয়াপাড়া মসজিদের উন্নয়নের ৬৮ লক্ষ টাকা আত্মসাতেরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। ৫ আগস্টের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে পতেঙ্গার বিভিন্ন ঘাট, বিশেষ করে ১৪ ও ১৫ নম্বর ঘাট এবং চাইনিজ ঘাটে চাঁদাবাজি, ইয়াবা ও বিদেশি মদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে এই চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তৃণমূল বিএনপি নেতাদের দাবি, ডা. নূরুল আবসার ও জিয়ার নেতৃত্বে ১১ জনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এলাকায় মাদক ও চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছে। এই চক্রের হাতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলের ভাবমূর্তিও চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই ১১ জন অপরাধীর তালিকা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং মাদক সিন্ডিকেট পুরোপুরি নির্মূল করতে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে এসকল বিতর্কিত ও চিহ্নিত অপরাধীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।



