আইন-শৃঙ্খলাচট্টগ্রাম

সীতাকুণ্ডে র‍্যাবের অভিযানে ৫ লাখ কেজি চাল জব্দ, গ্রেফতার ১

মুহাম্মাদ জুবাইর: চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায় সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুদ ও ভিন্ন মোড়কে বাজারজাত করার অভিযোগে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম। অভিযানে বিপুল পরিমাণ চাল জব্দের পাশাপাশি এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুদ করে তা ভিন্ন প্যাকেট ও মোড়কে বাজারজাত করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব জানতে পারে, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানাধীন কদমরসুলপুর এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়াই বিপুল পরিমাণ চাল গুদামজাত করে রেখেছে এবং তা সাধারণ মানুষের কাছে ভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করছে।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (১৩ মে ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের উদ্যোগে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও খাদ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে র‍্যাব সদস্যরা সংশ্লিষ্ট গুদাম ও প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে সরকারি চালের বিশাল মজুদ উদ্ধার করেন।
মোবাইল কোর্ট চলাকালে দেখা যায়, চালগুলো সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তা গোপনে মজুদ রেখে ভিন্ন মোড়কে বাজারজাতের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। অভিযানে মোট ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৬ শত কেজি চাল জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ ধারায় আব্দুল আজিজ (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন বামুন সুন্দর দারোগাহাট এলাকার মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চাল মজুদ ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করতে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরকারি চাল ও খাদ্যশস্য অবৈধভাবে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, সরকারি খাদ্যপণ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। যারা জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যপণ্য অবৈধভাবে মজুদ, পাচার বা ভিন্ন মোড়কে বাজারজাত করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা র‍্যাবের এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গোপনে খাদ্যপণ্য মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছিল। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম আরও জানায়, জব্দকৃত চাল ও গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্য মজুদ, কালোবাজারি ও প্রতারণামূলক বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেন এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন সহকারী পুলিশ সুপার সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম পক্ষে অধিনায়ক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button