ইসলাম ধর্ম

জিলহজের পুণ্যময় দিনগুলোর প্রস্তুতি: নখ-চুল কাটাসহ গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতের তাৎপর্য

ধর্ম ডেস্ক: ইসলামের দৃষ্টিতে জিলহজ মাস এক বিশেষ রহমত ও বরকতের বার্তা নিয়ে আসে। পবিত্র এই মাসটি কেবল কুরবানির জন্যই নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও খোদাভীতি অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। বিশেষ করে জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের ইবাদতকে বছরের শ্রেষ্ঠ আমলগুলোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পুণ্যময় সময়কে স্বাগত জানাতে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে ইসলাম নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তুতির নির্দেশনা দিয়েছে।

জিলহজ মাস শুরু হওয়ার আগেই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। এর মধ্যে অন্যতম হলো নখ, চুল এবং অপ্রয়োজনীয় লোম পরিষ্কার করে নেওয়া। এটি কেবল বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা নয়, বরং সুন্নতের অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের একটি মাধ্যম।

যারা পবিত্র ঈদুল আযহায় কুরবানি করার সংকল্প করেছেন, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে (নং ৫২৩৩) উল্লেখ রয়েছে—যিনি কুরবানি দেওয়ার ইচ্ছা রাখেন, জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত তিনি যেন তাঁর চুল ও নখ না কাটেন। এই আমলটির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে হজ পালনরত মুসলমানদের সাথে ঘরে থাকা মুমিনদের এক ধরণের আত্মিক মেলবন্ধন তৈরি হয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশে ২০২৬ সালে ১৮ মে সোমবার সূর্যাস্তের পর জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায়, সূর্যাস্তের আগেই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার কাজগুলো শেষ করা উত্তম। পরিবারের সকলকে, বিশেষ করে ছোটদের এই সুন্নতের গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো এবং উৎসাহিত করা একটি সুন্দর পারিবারিক চর্চা হতে পারে।

ইসলামে নিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। যারা আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কুরবানি দিতে পারবেন না, তাদের জন্যও রাসূলুল্লাহ (সা.) আশার বাণী শুনিয়েছেন। সুনানে আবু দাউদের একটি হাদিস (নং ২৭৯১) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি কুরবানি দিতে না পারেন এবং তিনি জিলহজের শুরুতে পরিচ্ছন্ন না হয়ে ঈদের পর নখ ও চুল কাটেন, তবে আল্লাহ তায়ালা তাকে পূর্ণ কুরবানির সওয়াব দান করতে পারেন।

আলেমগণের মতে, যারা কুরবানি দেবেন তারা তাদের পশু কুরবানি সম্পন্ন করার পর চুল ও নখ কাটবেন। আর যারা কুরবানি দেবেন না, তারা ঈদের নামাজের পর যখন কুরবানির সময় শুরু হবে, তখন এই পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে পারবেন।

যান্ত্রিক জীবনে আমরা অনেক সময় ছোট ছোট আমলগুলো ভুলে যাই। অথচ এই সামান্য ত্যাগের মাধ্যমেই মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব। তাই আসুন, আসন্ন জিলহজ মাসকে স্বাগত জানাতে আমরা বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি অন্তরকেও ঘৃণা, অহংকার ও পাপাচার থেকে মুক্ত করি। হয়তো এই ছোট্ট আমলটিই হতে পারে আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও ক্ষমা পাওয়ার বিশেষ অসিলা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button