আইন-শৃঙ্খলাকুমিল্লা

কুমিল্লায় শিশু নাবিলা ধর্ষণ ও হত্যাকারী ঘাতক মেহরাজের দ্রুত ফাঁসির দাবি

এম শাহীন আলম: কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা (দক্ষিণ) কৃষ্ণনগর গ্রামের প্রবাসী আবুল কালাম এর ৪ বছরের শিশু নাবিলা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামী মেহরাজ হোসেন তুষারকে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারী মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। কুমিল্লা জেলা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক নাজমুল হক শ্যামল এই রায় দেন। ফাঁসির রায় ছাড়াও আসামিকে এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করেন এই বিচারক। এই মৃত্যু দন্ড রায়ের ১৬/১৭ মাস অতিবাহিত হলেও ধর্ষক তুষার এর মৃত্যু দন্ড কার্যকর করতে সক্ষম হয়নি এই দেশের বিচারিক ব্যবস্থা। গত ২০১৮ সালের ঘটে যাওয়া শিশু নাবিলা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার যদি কার্যকর হতো তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে এই অমানবিক বর্বর নিষ্ঠুর কর্মকান্ড ঘটাতে অপরাধীরা সাহস পেতো না। শিশু ধর্ষণের মতো এই হিংস্র অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতন করতে শতবার ভাবতো। শিশু নাবিলা আক্তারের প্রবাসী বাবা আবুল কালাম মেয়ের শোকে সঠিক বিচারের আশার প্রাণে এখনো তাকিয়ে আছেন। ধর্ষক ও হত্যাকারী তুষারকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত ফাঁসির রায় দিলেও কিছু অর্থ লোভী আইনজীবীর সহায়তায় ঘাতক তুষারের ফাঁসির রায়ের বিলম্বিত হচ্ছে। কিছু দিন পর পর শিশু নাবিলার প্রবাসী বাবা আবুল কালাম তার আদরের সন্তান শিশু নাবিলার হত্যাকারী মেহরাজ হোসেন তুষারের ফাঁসি চেয়ে আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট সমাজের বিবেকবান মানুষদের নাড়া দেয়। যা আজ ৭ বছর ধরে অব্যাহত রয়েছে, ফেসবুক পোস্টে কালাম তার মেয়ে নাবিলা ধর্ষণ হত্যার সঠিক বিচারের আকুতি করেই যাচ্ছেন। প্রায় দেড় বছর আগে নাবিলা হত্যার বিচারের রায় ঘাতক মেহরাজ হোসেন তুষারকে মৃত্যুদন্ড দিলেও এখনো আইনের মারপেঁচে তুষারের মৃত্যু কার্যকর না হওয়ায় সর্ব মহলে আইনের প্রতি বিরূপ মন্তব্য আর হতাশা ও সমালোচনার ঝড়। শিশু নাবিলার মতো ঠিক অবিকল ঘটনা ঢাকার পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশু রামিসার ঘটনাটি যেমন নাড়া দিয়েছে পুরো বাংলাদেশকে, তেমনি গত একমাসে আরো অন্তত তিনটি শিশু এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায়ও শিশু ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্ষণকারীকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের সাথে স্থানীয় লোকজনের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিক সহ অনেক লোক আহতের ঘটনা ঘটেছে। শুধু চট্টগ্রামই নয়, সারাদেশের মানুষের একেই ভাষ্য ধর্ষণকারীকে পুলিশে দিলে তারা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে কিছুদিন পর জামিনে বের হয়ে আসবে। দেশের মানুষ চলমান আইনের প্রতি আস্থা রাখতে নারাজ। গণমানুষের দাবি গণ পিটুনিতে ধর্ষকদের বিচার করা হউক। যদি বিগত দিন গুলোতে শিশু নাবিলা আক্তার সহ আরো ঘটে যাওয়া অসংখ্য শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার গুলো কার্যকর হতো তাহলে শিশু রামিসার বাবা দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে চিক্কার করে বলতে পারতো না আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই না।

আসামি মেহরাজ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা (দক্ষিণ) ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের পল্লি চিকিৎসক আলী আশরাফের ছেলে। বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. শরীফুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালের ১৭ই ডিসেম্বর চকলেটের লোভদেখিয়ে চার বছরের শিশু নাবিলা কে ধর্ষণের পর হত্যা করে পার্শ্ববর্তী একটি নির্মাণাধীন বাড়ির কার্নিশে সিমেন্টের ব্যাগে মুড়িয়ে ফেলে রাখে প্রতিবেশি যুবক মেহেরাজ হোসেন তুষার।
সেদিন নাবিলাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরদিন সকালে খোঁজাখুঁজির সময় নাবিলার মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। এই ঘটনায় নাবিলার দাদা আবদুল আজিজ বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশী তদন্তের সময় ১৪ দিন পর আসামী মেহরাজ হোসেন তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ ৬ বছর আদালতে মামলাটি বিচারাধীন থাকার পর নারী ও শিশু ট্র্যাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আসামী মেহরাজ হোসেন তুষারকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেন।

শিশু নাবিলা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘাতক মেহরাজ হোসেন তুষারের মৃত্যু দন্ড আদেশের ১৬ মাস অতিবাহিত হলেও ঘাতক ধর্ষক তুষারের মৃত্যু দন্ডের কার্যকর এখনো অধরায়। এই ধর্ষক ও হত্যাকারী ঘাতক তুষারের ফাঁসি অবিলম্বে কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তার মা বাবা সহ কুমিল্লার সর্বস্তরের মানুষ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button