দেশ

চৌদ্দগ্রামে সাংবাদিক ও নারী মেম্বারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের বুদ্দিনগ্রামে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সাংবাদিক উজ্জ্বল ভূঁইয়া ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার মাসুদা আক্তার মিনার বাড়িতে একদল কিশোর গ্যাং হামলা চালিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা হলেন ।জীবন (২৫), জিহাদ (১৪), মাজারুল (১৭), শাওন (১৮), সেলিম (২৮), খোকন (৩৫), শাহজাহান (৪০), মোহাম্মদ আলী (৬০) ও সাইমন (১৮)। হামলায় প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি আদালতে মামলাধীন রয়েছে। গ্রামের মুরব্বিরা কয়েকবার বসে সমাধানের চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা তা মানতে রাজি হয়নি। বরং বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার মাসুদা আক্তার মিনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমি ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে দেখি আমার পিছনের দরজা ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও কোরবানির জন্য জমানো ৫০ হাজার টাকা ও iphone ১৩ প্রোম্যাক্স নিয়ে গেছে। একজন নারী জনপ্রতিনিধি হয়েও আজ আমি নিরাপদ নই।

আমরা অসহায় মানুষ, তাই বিচার চাই।”
তিনি আরও বলেন,
এলাকার মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে চায় না। কারণ অভিযুক্ত জীবন নিজেকে মেঘনা গ্রুপের মোস্তফা কামালের নাতি পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে। তারা যেন এলাকায় এক ধরনের রাজত্ব কায়েম করেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা শুধু ঘরবাড়ি ভাঙচুরই করেনি, তাদের ওপর শারীরিক হামলাও চালিয়েছে। এতে নারী ও শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মাসুদা আক্তার মিনা আরও বলেন,
জায়গা যদি তারা আইনের মাধ্যমে পায়, আমরা দিয়ে দেব। কিন্তু একজন মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে, লুটপাট চালিয়ে কিভাবে বিচার নিজের হাতে তুলে নেয়? আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা

৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেন,
“আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ভাঙচুরের ঘটনা সত্য, আমি নিজে দেখে এসেছি। বাদীপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার এভাবে নির্যাতনের শিকার না হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button