অপরাধদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে লাগামহীন অপরাধ: চরম নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জুড়ে গত পাঁচ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। ডাকাতি, চুরি, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলদারি, অপহরণ ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মাদকের বিস্তার, বখাটেদের উৎপাত, নারী হেনস্থা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে সংঘাত ও খুনের চেষ্টার মতো ঘটনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন নাজুক অবস্থায় সুশীল সমাজ ও সাধারণ নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশাসনের নীরব ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না বলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হওয়া এই জেলায় মাদকের আগ্রাসন থামছে না। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠায় শান্ত জনপদ এখন অশান্ত হয়ে উঠছে। সচেতন মহলের মতে, যথা সময়ে অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা জেলায় ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। গত ১৭ এপ্রিল মাদক সম্রাটদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় এক সাংবাদিককে মাদক দিয়ে ফাঁসানো এবং হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ৩০ এপ্রিল বাতেন খাঁর মোড়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর ১৭ মে আইনজীবী ভবনে আইনজীবীদের দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সাতজন আহত হন, যেখানে পুলিশ ও সাংবাদিকরা লাঞ্ছিত হওয়ার শিকার হন। সবশেষ ১৮ মে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকা গ্রাম থেকে এক গৃহশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, “মাদক নির্মূলে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের কাছে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মাদক উদ্ধারে অন্যান্য বিভাগও কাজ করছে। মূলত আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই আমাদের প্রধান দায়িত্ব, মাদক উদ্ধার আমাদের একমাত্র কাজ নয়।”

তবে পুলিশের এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত হতে পারছেন না স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা আরও প্রকট হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button