আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

এম এ মান্নানঃ আসন্ন বর্ষায় চট্টগ্রাম মহানগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত রাখতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার রাখা, ম্যানহোলের ঢাকনা ও র্যালিং স্থাপন এবং সিসিটিভির মাধ্যমে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সোমবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে আয়োজিত চসিকের বিভাগীয় প্রধানদের সাথে সমন্বয় সভায় এ নির্দেশনা দেন মেয়র। সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ বিভাগীয় প্রধানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় প্রধানবৃন্দ স্ব স্ব বিভাগের চলমান কার্যক্রম ও করণীয় তুলে ধরেন।
এসময় মেয়র প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, গত বছর যে সমস্ত পয়েন্টে জলাবদ্ধতা হয়েছিল সেগুলোকে চিহ্নিত করে এ বছর সেখানে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণ করে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের সাথে কথা বলে, যে সমস্ত স্থানে পানি অপসারণের জন্য পাম্প বসানো প্রয়োজন, সে সমস্ত স্থানে পাম্প বসানোর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে ৮-১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টকে সিসিটিভি-র আওতায় আনতে হবে, যাতে প্রবল বর্ষার সময়ে সে সমস্ত স্থানের পরিস্থিতি মনিটরিং করা যায়। যে সমস্ত স্থানে ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হয়ে গেছে অথবা নেই, সেগুলোতে ম্যানহোলের ঢাকনা স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন খাল ও নালার পাশে সুরক্ষার জন্য র্যালিং নির্মাণ করতে হবে। নগরীর পরিচ্ছন্নতার উন্নয়নের জন্য পরিচ্ছন্ন বিভাগের প্রত্যেকটি জোনের কোন কোন অংশ থেকে ময়লা অপসারণ ব্যাহত হচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করতে বলেন মেয়র। প্রয়োজনে যে সমস্ত স্থানে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নেই, সেগুলোতে এসটিএস স্থাপনের জন্য নির্দেশ দেন মেয়র।
প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে মেয়র বলেন, বন্দর থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রাপ্য রাজস্ব যাতে নিশ্চিত হয়, সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে। এছাড়া, যে সমস্ত কন্টেনার ইয়ার্ডের রাজস্ব নির্ধারণ করা বা পুনর্নির্ধারণ প্রয়োজন, সেগুলোকেও রাজস্ব যথাযথভাবে নির্ধারণ করতে হবে। এছাড়া, প্রতিবছর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকায় গত কয়েক বছরে কতগুলো ফ্ল্যাট এর মালিকানা নিবন্ধিত হয়েছে, সেগুলো হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতায় এসেছে কিনা, সেগুলোর জন্য তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা দেন মেয়র। এসময় প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন সংস্কার করা প্রয়োজন জানালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেসব ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, সেগুলো সংস্কারের নির্দেশনা দেন মেয়র।



