বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষা, দখল উচ্ছেদ, পরিচ্ছন্নতা ও খনন কার্যক্রমে জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বুড়িগঙ্গা নদীর দখল উচ্ছেদ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও পরিকল্পিত খনন কাজ পরিচালনার জন্য জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবিতে আজ সকাল ১১.০০ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে “বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন” এর উদ্যোগে এক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন এর সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস এবং সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক ও গ্রীন ভয়েস এর কো-ফাউন্ডার হুমায়ুন কবির সুমন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ আমিরুল রাসূল।
সভাপতির বক্তব্যে মিহির বিস্বাস বলেন, বুড়িগঙ্গা নদী আজ অবৈধ দখল, শিল্পবর্জ্য ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। তিনি বলেন, “নদী দখলমুক্ত করা ও নিয়মিত খনন ছাড়া বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানো সম্ভব নয়। তাই এ খাতে জাতীয় বাজেটে পৃথক ও পর্যাপ্ত বরাদ্দ এখন সময়ের দাবি।”
তিনি আরও বলেন, শুধু ঘোষণার মাধ্যমে নয়, বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। নদী রক্ষায় প্রশাসন ও নাগরিক সমাজকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি আমিরুল রাসূল বলেন, বুড়িগঙ্গা শুধু একটি নদী নয়, এটি ঢাকার জীবনরেখা। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় এটি আজ মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে। তিনি বলেন, “দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য টেকসই ড্রেজিং, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং আলাদা বাজেট কাঠামো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক কঠোরতা অত্যন্ত জরুরি।
নাগরিক সমাবেশ থেকে ৫ দফা দাবি উথাপন করা হয় :
১. বুড়িগঙ্গা নদীর অবৈধ দখলদারদের দ্রুত উচ্ছেদ এবং নদীর সীমানা পুনঃনির্ধারণ।
২. জাতীয় বাজেটে নদী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের জন্য আলাদা ও স্থায়ী বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
৩. বুড়িগঙ্গার নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত ও বৈজ্ঞানিক ড্রেজিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন।
৪. শিল্প ও গৃহস্থালি বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
৫. নদী রক্ষায় স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী নদী রক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠন ও প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও বাজেট বৃদ্ধি করা।



