ঘুষ প্রতারণার মামলায় ভূমি কর্মকর্তা জেল হাজতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় ৯৯ বছরের জন্য কৃষি জমির লিজ পাইয়ে দেওয়ার নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, প্রতারণা, মারধর, অবৈধভাবে আটক এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। আদালতের নির্দেশে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ মামলাটি এজাহার হিসেবে রুজু করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. মিনারুল হককে আটক করা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. ইদ্রিস হোসেন খান রতনের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কৃষি জমির ৯৯ বছরের লিজ এনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মো. মিনারুল হক ও মো. রেজাউল ইসলাম সজল তার কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা লিজের কোনো ব্যবস্থা না করে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বাদী নগদ ৭ লাখ টাকা অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেন। অভিযুক্তরা বিভিন্ন পরিচয়পত্র ও কাগজপত্র দেখিয়ে তাকে আশ্বস্ত করেন যে, ছয় মাসের মধ্যে লিজের কাজ সম্পন্ন করা হবে। অন্যথায় পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বাদী জেলা প্রশাসকের এলএ শাখায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, এ ধরনের কোনো কার্যক্রমই গ্রহণ করা হয়নি। এরপর গত ১৪ মে সকাল ১১টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ১২ নম্বর সেক্টরের খালপাড় কাজী টাওয়ার সংলগ্ন একটি রেস্তোরাঁয় অভিযুক্তদের সঙ্গে দেখা করে টাকা ফেরত চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা বাদীকে প্রায় এক ঘণ্টা বেআইনিভাবে আটকে রেখে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার নাক, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। একই সঙ্গে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত অবস্থায় তাকে টঙ্গী ৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের প্রতিবেদনে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাদীপক্ষের দাবি, অভিযুক্তরা একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্রের সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে।
মামলাটি প্রথমে আদালতে সিআর মামলা হিসেবে দায়ের করা হয়। পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য উত্তরা পশ্চিম থানাকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা নং-৩৮, তারিখ ২২ মে ২০২৬, রুজু করা হয়।
মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪০৬ (অর্থ আত্মসাৎ), ৩২৩ (মারধর), ৩৪২ (অবৈধ আটক) এবং ৫০৬ (প্রাণনাশের হুমকি) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে মো. মিনারুল হককে আটক করা হয়েছে এবং অপর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।



