
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-এর তিন পুলিশ পরিদর্শককে (নিরস্ত্র) বদলি করে চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের মধ্যে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মুহাম্মাদ সুলতান আহসান উদ্দীন রয়েছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগ ও জনমনে অসন্তোষের আলোচনার মধ্যেই তার এই বদলিকে ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-২ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে সিএমপির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) সনজয় কুমার সিনহা, কাজী মুহাম্মাদ সুলতান আহসান উদ্দীন এবং সঞ্জয় গৃহকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারাদেশে চলমান প্রশাসনিক রদবদলের অংশ হিসেবেই এই বদলি কার্যকর করা হয়েছে। তবে হালিশহর থানার ওসির বদলিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্ন ধরনের আলোচনা রয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই থানার কার্যক্রম ও কিছু আলোচিত ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কৃষকদলের এক নেতার বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে অসদাচরণ ও দস্যুতার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ থাকার দাবি করা হলেও ভুক্তভোগীর অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি এবং আপস-মীমাংসার চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এজাহার গ্রহণের পরিবর্তে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া হালিশহর এলাকার একটি কারখানায় এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের আগেই মৃত্যুকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী থানায় অবস্থান নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা দেখা যায়।
এদিকে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে ওসি আহসান উদ্দীনের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা ও অভিযোগ গ্রহণকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিল।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, নতুন নেতৃত্বের অধীনে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা এবং জনসেবার মান উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ইউনিটে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের শীর্ষ নেতৃত্বেও পরিবর্তন আনা হয়। নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সাম্প্রতিক এই বদলি শুধুমাত্র নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ নাকি অভিযোগ ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নেওয়া সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।



