চট্টগ্রামশিক্ষা

শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই: ড. কিসিঞ্জার চাকমা

দুলাল শিকদার: চসিক কলেজ শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপসচিব ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেছেন, “ক্যান্টনমেন্টে একটি কথা প্রচলিত আছে—প্রশিক্ষণ যত কঠিন হবে, যুদ্ধ তত সহজ হবে। এই প্রবাদ শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য নয়, কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। শিক্ষকদের যত বেশি প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে, তাদের পাঠদান কার্যক্রম তত বেশি সহজ, কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে।”

শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টায় চসিক পাবলিক লাইব্রেরি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরিশোধন ও মূল্যায়ন বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা’-য় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কলেজ শিক্ষক সমিতি।

ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা সমৃদ্ধ করতে হবে। একজন দক্ষ শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের আধুনিক কৌশল সম্পর্কে শিক্ষকদের সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন। এ ধরনের প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের পেশাগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চসিক কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক আকাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চসিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সিনিয়র সহকারী সচিব নাজমা বিনতে আমিন।

দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ২৪টি কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জীববিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, পৌরনীতি ও সুশাসন, অর্থনীতি এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের মোট ১৫২ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন চসিক কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম শাহজাদা। কর্মশালায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্ন প্রণয়ন, মডারেশন ও প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্ব পালনকারী অভিজ্ঞ শিক্ষকরা রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রিসোর্স পারসন হিসেবে অংশ নেন ইকরামুল কবির, কৃষ্ণ চন্দ্র দাস, ফাতেমা আক্তার, আঞ্জুমান আরা বেগম, রোজি আক্তার, মোহাম্মদ আবু সায়েম, নুরুল আলম আযাদ, আলেয়া ফেরদৌসি, শান্তা পাল, বিজয় চন্দ্র নাথ, মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, ইসরাত জাহান ফারুকী এবং মোরশেদা বেগম।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দ। তাদের মধ্যে ছিলেন মো. আমিনুল হক খান, মো. আবু তালেব বেলাল, মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, জাহানারা বেগম, নাছিমা আক্তার, জয়নাল আবেদীন, সৈয়দা সারওয়াত জাহান, জারেকা বেগম এবং এবিএম মাহবুবুল হক।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা জানান, সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, প্রশ্ন পরিশোধন এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এই কর্মশালার মাধ্যমে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, দক্ষ শিক্ষক তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধা বিকাশে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত প্রকাশ করেন বক্তারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button