আইন-শৃঙ্খলাচট্টগ্রাম

পাহাড়তলীতে তালিকাভুক্ত মাদক মামলার আসামি রেজাউল করিম গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার পর সিডিএ মার্কেট সংলগ্ন এলাকা থেকে আটক; পাহাড়তলীসহ নগরের বিভিন্ন থানায় রয়েছে একাধিক মামলা

চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানা পুলিশের অভিযানে রেজাউল করিম (প্রকাশ্যে পরিচিত ‘মুন্নির জামাই রেজাউল’ নামে) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি পাহাড়তলী থানার তালিকাভুক্ত মাদক মামলার আসামি এবং দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ৯টার দিকে পাহাড়তলী থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল সিডিএ মার্কেট সংলগ্ন রেললাইন এলাকার রাসুল আহমদের কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার পর তাকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে পাহাড়তলী থানাসহ চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন থানায় মাদক ও অন্যান্য অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত এবং মামলাগুলোর আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, রেজাউল করিমের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ মাদকচক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে পাহাড়তলী থানার সেকেন্ড অফিসার বলেন, “আমার এলাকায় কোনো ধরনের মাদক সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি থানার পক্ষ থেকে বিভিন্ন অভিযোগভিত্তিক একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলবে।”

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবদল নেতা বলেন, “মাদকের কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে। মাদকসেবন, চুরি, ছিনতাই, দখলবাজি ও নানা অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে মাদক বড় কারণ। প্রশাসন যদি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাহাড়তলী, নোয়াপাড়া, রেলবিট, আজমনগর, লংকাপাড়া, বারুণীঘাট, কলেজ রোড, শফি কলোনি ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকসংক্রান্ত কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযোগভিত্তিক তালিকায় থাকা বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে মাদক ও অন্যান্য অপরাধসংক্রান্ত মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে কারাগারেও রয়েছেন। তবে প্রত্যেক অভিযোগের বিষয়ে আইনগত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পাহাড়তলী থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, গোয়েন্দা তথ্য বা মামলা রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান শুধু গ্রেপ্তারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং মাদক সরবরাহ, অর্থায়ন এবং নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িতদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাম্প্রতিক অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে পাহাড়তলী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button