কবিতা ও সাহিত্য

একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশের প্রধান কবি আল মুজাহিদীর মহাপ্রয়াণ

ইসমাঈল আহসান: ঢাকা, ১৯ জুন, ২০২৬ : গত শতকের ষাটের দশকের অন্যতম প্রধান কবি এবং সমকালীন বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি আল মুজাহিদী আজ শুক্রবার দুপুর দেড়টায় দুনিয়ার সফর শেষ করে মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে ইন্তিকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন ৮৩ বছর বয়সী দেশের প্রধান এই কবি।

তার ছেলে ও একাত্তর টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক শাবিব আল মুজাহিদী বাসসকে বলেন, “বাবাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল গত বুধবার। এর মধ্যে দুইবার তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। তার ব্লাড ইনফেকশন ছিল এবং কিডনি ফেইলিউর, হার্ট ফেইলিউর সবই, অ্যাট এ টাইম সব। আজকে বেলা ১টার দিকে আবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। তারপর তাকে শক থেরাপি দেওয়া হয়, কিন্তু ফাইনালি আর বাঁচানো যায়নি।”

কবি কন্যা মারিয়ামা দিপু জানান, “বুধবার বেলা ১২টার দিকে হার্ট অ্যাটাক হলে সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতাল থেকে কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিকভাবে কাজ করছিলো না। প্রায় দু’সপ্তাহ যাবত কথা বলতে পারছিলেন না তিনি।” 

পরিবার সূত্রে জানানো হয়, আজ বাদ এশা কবি আল মুজাহিদীর প্রথম নামাজে জানাজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল সকাল ১০টায় দ্বিতীয় নামাজে জানাজা হবে জাতীয় প্রেস ক্লাবে। এরপর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য লাশ নিয়ে যাওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।

১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের গোপালপুরের নারুচি গ্রামে আল মুজাহিদীর জন্ম। তার বাবা আবদুল হালিম জামালী ছিলেন একজন নাট্যকার ও সংগঠক। আর মা সাখিনা খান ছিলেন গীত-রচয়িতা এবং সমাজকর্মী। ব্রিটিশবিরোধী ও আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে তিনি কয়েকবার কারাবরণ করেন।

১৯৬০ সালে টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দত কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেন আল মুজাহিদী। পরে সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তিনি দুইবার স্নাতকোত্তর করেন। তিন দশকেরও অধিক সময় ধরে দৈনিক ইত্তেফাক-এর সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। কবিতার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, সমালোচনাসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। শিশু সাহিত্যে তাঁর অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

২০১২ সালে সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন যায়যায়দিন পত্রিকায়। সবশেষ তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো ষান্মাষিক সাহিত্যপত্র ‘নতুন এক মাত্রা’।বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০০৩ সালে কবিকে একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়াও অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শোক জানিয়েছেন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের কবি হিসেবে তাঁর সাহিত্যকর্ম এবং সৃজনশীল অবদান বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাঁর অবদান স্মরণ করবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button