জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

হোসনে আরা হীরা (স্টাফ রিপোর্টার) ঢাকা: জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও পারিবারিক কলহের জের ধরে একটি মিথ্যা মামলায় নিজেকে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাভারের মাজিদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মামুন। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মামুন উল্লেখ করেন, তার ফুফাতো ভাই শামসুল হক মোল্লা ও তার পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। গত ৩০ মে ২০২৩ তারিখে শামসুল হক মোল্লা ও তার ভাইয়েরা মামুনের পরিবারের ওপর হামলা চালায়, যার প্রেক্ষিতে মামুনের মা উম্মে নাহার বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে চলমান।
অভিযোগে আরও বলা হয়,শামসুল মোল্লা তার সব পৈতৃক সম্পত্তি কৌশলে তার স্ত্রী নাজমা বেগমের নামে লিখে নিয়েছিলেন। এরপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শামসুল মোল্লা মারা যান। সম্পত্তি নাজমার নামে হস্তান্তরিত হওয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে নাজমা বেগম সরাসরি জড়িয়ে পড়েন।
মামুনের অভিযোগ, নাজমা বেগমের ভাই ও এক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি নাজমুল হুদা নিজের প্রভাব খাটিয়ে গত ২৩ মে ২০২৬ তারিখে সাভার মডেল থানায় দায়ের করা একটি সাংবাদিক নির্যাতন মামলায় (মামলা নং-৮৬) তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ২১ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে মামুন দাবি করেন, সাংবাদিক নির্যাতনের ওই ঘটনার দিন তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। ঘটনার সময় তিনি সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাসায় ছিলেন, আর ঘটনাস্থল ছিলো ৮ নম্বর ওয়ার্ডে, যা তার বাসা থেকে প্রায় এক কিলোমিটারেরও বেশি দূরে। এছাড়া মামলার মূল আসামি শামিম নামের এক মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার কোনো পরিচয় বা সম্পর্ক নেই বলেও তিনি জানান।
ভুক্তভোগী মামুন বলেন, “নাজমা বেগমের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত টাকা-পয়সার বিরোধ থাকায় আমাদের পরিবারকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এই সাজানো মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমার মতো আরও ৩-৪ জন নিরপরাধ ব্যক্তিকে একইভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে নাজমুল হুদা তার বোন নাজমা বেগমকে জমি লিখে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায়ই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাকে এই মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।
নিজে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে মো. মামুন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং প্রকৃত ঘটনার আড়ালে থাকা নেপথ্যের কুশীলবদের শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



