চট্টগ্রামে চোরাই মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তনকারী চক্রের মূলহোতা ‘পার্টি সোহেল’সহ গ্রেপ্তার ৫

মুহাম্মাদ জুবাইর: চট্টগ্রাম মহানগরীতে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মাধ্যমে সংগ্রহ করা মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে পুনরায় বাজারজাতকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামাল, আইএমইআই পরিবর্তনের যন্ত্রপাতি, নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
সিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্মানিত পুলিশ কমিশনারের দিকনির্দেশনায় কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল গত ২৪ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের শুরুতে পুলিশ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনিকে আটক করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানাধীন নন্দনকানন আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতা মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন ওরফে পার্টি সোহেলসহ আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন ওরফে পার্টি সোহেল (৩৫), জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনি (৫২), আবু সাঈদ (৩৪), মো. শামীম (২৪) এবং সাইফুল ইসলাম (১৯)।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মাধ্যমে সংগ্রহ করা মোবাইল ফোন কম দামে কিনে নিজেদের হেফাজতে রাখত। পরে বিশেষ প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা হতো। শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের বাহ্যিক কেসিং পরিবর্তন করে ফোনগুলোকে নতুন বা বৈধ ডিভাইস হিসেবে বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করা হতো। ফলে প্রকৃত মালিকদের পক্ষে তাদের হারানো মোবাইল ফোন শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত।
অভিযানকালে গ্রেফতারকৃতদের দখল থেকে ২৪টি আইফোনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১৫৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ৫টি ল্যাপটপ, ২০১টি বিভিন্ন কোম্পানির মোবাইল সিম, ৪৪৫টি মোবাইল ফোনের কেসিং, একটি মাইক্রোস্কোপ, একাধিক চার্জার, মাল্টিপ্লাগ, আইএমইআই পরিবর্তনের মেশিন এবং এ কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে নগদ ১ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকাও।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, চক্রটি অত্যন্ত সংগঠিতভাবে কাজ করত। চুরি ও ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা বিভিন্ন স্থান থেকে মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে তাদের কাছে সরবরাহ করত। এরপর প্রযুক্তিগত কারসাজির মাধ্যমে মোবাইল ফোনের পরিচিতি নম্বর পরিবর্তন করে সেগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হতো। প্রাথমিক তদন্তে এ ধরনের একটি বৃহৎ নেটওয়ার্কের তথ্য পাওয়া গেছে এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কোতোয়ালী থানার পুলিশ আরও জানায়, চোরাই মোবাইল ফোনের অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে এবং নগরীতে সংঘটিত ছিনতাই ও চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটনে এ অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলোর প্রকৃত মালিকদের শনাক্তের কাজও শুরু হয়েছে।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা নং-৬০, তারিখ ২৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪১৩/৩৪ ধারাসহ সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২২(২) ও ২৭ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত মূলহোতা মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন ওরফে পার্টি সোহেলের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধে বিভিন্ন থানায় মোট ৮টি মামলা রয়েছে। জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনির বিরুদ্ধে রয়েছে ৪টি মামলা। এছাড়া আবু সাঈদের বিরুদ্ধে গাজীপুরের বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সিএমপি জানিয়েছে, নগরীতে অপরাধ দমনে এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের চুরি বা ছিনতাইয়ের শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।



