
অনলাইন ডেস্ক: হবিগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ঠেলে পাঠানো বা পুশ ইনের অপতৎপরতা মোকাবেলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত কয়েকদিন ধরে সীমান্ত পাহারায় বিজিবির বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে।
সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুশ ইন ঠেকাতে বিজিবির সঙ্গে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, স্থানীয় কৃষক, চা বাগানের কর্মী ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষও দিন-রাত পরিশ্রম করছে। বিজিবি জানায়, সম্প্রতি ভারত থেকে পুশ ইনের মতো অপচেষ্টা বেড়ে যাওয়ায় ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ১৬টি বিওপি থেকে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত উঠান বৈঠক, মাইকিং এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তোলা হয়েছে। সূত্র জানায়, স্থানীয় চা শ্রমিক, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজিবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পুশ ইন প্রতিরোধ ও এ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সক্রিয় অংশ নিচ্ছেন।
এই ঐক্যবদ্ধ হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পুশ ইন বা অনুপ্রবেশ ঘটতে পারেনি।গত ২৭ ও ২৮ জুন ২০২৬ তারিখ রাতে ও ভোরে মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার তেলিয়াপাড়া এবং গুইবিল সীমান্ত এলাকায় রাতে নিরাপত্তা লাইট বন্ধ করে একাধিক পুশ ইনের অপচেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে বিজিবির টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রতিহত করে। সীমান্তসংলগ্ন এলাকাবাসীর সতর্ক অবস্থান ও তথ্যের ভিত্তিতে টহলদল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়।
হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, হবিগঞ্জ সীমান্তে আমরা একা নই। বিজিবি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, গ্রাম পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, স্থানীয় কৃষক, চা শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ সবাইকে নিয়ে একটি অটুট সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছি।
ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক আরো বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষায় সব শ্রেণি পেশার মানুষের এই দেশপ্রেমই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্তের প্রতিইঞ্চি পাহারা দিচ্ছি। যেকোনো পুশ ইন বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।



