পতেঙ্গার কুখ্যাত সন্ত্রাসী এনাম গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় এনসিপির সংগঠক সাদাত সায়েম এবং পতেঙ্গা থানা কৃষক দলের আহ্বায়ক নাসিরের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে যুবলীগ কর্মী এনামকে গ্রেপ্তার করেছে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। অনেকেই এ ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় পতেঙ্গা থানার এনসিপির সংগঠক সাদাত সায়েমের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৭ জুন দুপুরে একই কায়দায় পতেঙ্গা থানা কৃষক দলের আহ্বায়ক নাসিরের ওপরও হামলা চালানো হয়। পরপর দুই রাজনৈতিক নেতার ওপর হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
পতেঙ্গা থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারকৃত এনামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হামলার নেপথ্যের কারণ এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যারাই জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এনামের গ্রেপ্তারের পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাধিক এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এনামের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রচলিত ছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ছিনতাই এবং মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন বাসিন্দা আরও দাবি করেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী এক নেতার ঘনিষ্ঠতার কারণে এনাম এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। সেই প্রভাব ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং আদালতে সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে,এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর একটি অংশের দাবি, এনামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা এবং অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয়রা আশা করছেন, চলমান তদন্তের মাধ্যমে হামলার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত এনাম কারাগারে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



