চট্টগ্রামে সাইবার ট্রাইব্যুনালে সুমন ঘোষের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট, ভিডিও এবং মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগে সুমন ঘোষ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শমশের আলী। মামলাটি ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনের ২২, ২৫, ২৬ ও ৩০ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদী মোহাম্মদ শমশের আলী দীর্ঘদিন ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে খাতুনগঞ্জ এলাকায় বসবাস করে আসছেন। আসামি সুমন ঘোষ বাদীর ভাইয়ের কাছ থেকে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলেও দীর্ঘদিন ভাড়া বকেয়া রাখেন। বকেয়া ভাড়া পরিশোধের বিষয়ে তাগাদা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৯ জুন সকালে বাদী ফেসবুকে দেখতে পান, আসামি তার ব্যবহৃত “Suman Ghosh” নামের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও ও লিখিত স্ট্যাটাস প্রকাশ করেছেন। সেখানে বিএনপিকে জড়িয়ে বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামি একটি ভিডিওতে বিষপান করার দাবি করে বাদী ও তার দুই ভাইকে আত্মহত্যার জন্য দায়ী করার চেষ্টা করেন এবং ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন। পরে তিনি চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। বাদীর দাবি, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে।
এছাড়া মামলায় বলা হয়েছে, আসামি তার ফেসবুক আইডিতে বাদী ও তার দুই ভাইয়ের ছবি প্রকাশ করে তাদের “চাঁদাবাজ” আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করেন। এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে বাদী ও তার পরিবারের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, ফেসবুকের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, স্থিরচিত্র ও ভিডিও প্রকাশ করে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে আসামি প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, আসামির বিরুদ্ধে পূর্বেও কোতোয়ালী থানায় একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে, যার কিছু তদন্তাধীন এবং কিছু বিচারাধীন রয়েছে।
বাদী আদালতের কাছে আসামির বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফেসবুক পোস্ট ও ভিডিওর কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিও আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমন ঘোষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



