অনুসন্ধানঅভিযানপ্রতারনা

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ভিসা প্রতারণা চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

রউফুল আলম, ব্যুরো চীফ, রংপুর:

অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় উচ্চ বেতনের চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলো—মারিফুল ইসলাম (২১) ও বাচ্চা বাউ ওরফে হাসিনুর (২৮)। গত মঙ্গলবার বিকেলে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানার নয়ানখাল ডাংগারহাট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট, ভিসা অ্যাপ্রুভাল লেটার এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি নকল ভিসা যাচাইকরণ সাইট ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত অন্তত ৭২ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

মামলার সূত্রে জানা যায়, মো. ছায়েদুল হক নামের এক ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির আশায় আসামিদের প্রলোভনে পড়ে বিকাশের মাধ্যমে ধাপে ধাপে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে আরও টাকা দাবি করা হলে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি পল্লবী থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, ৭টি মোবাইল ফোন, ১৩টি সিম কার্ড এবং ৯টি জাল বাংলাদেশি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশে আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। পরে মেডিক্যাল ফি, ভিসা প্রসেসিং ফি, ডকুমেন্ট যাচাই, বিমান টিকিটসহ বিভিন্ন খাতের কথা বলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা আদায় করত।

বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে তারা ভুয়া এলএমআইএ (লেবার মার্কেট ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট), নকল ভিসা অনুমোদনপত্র এবং একটি প্রতারণামূলক ওয়েবসাইট ব্যবহার করত, যেখানে পাসপোর্ট নম্বর দিলে ভিসা অনুমোদিত দেখানো হতো।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইসে প্রতারণার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ভুক্তভোগীদের তালিকা এবং আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button