
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে ধারাবাহিক কড়া বক্তব্য দেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে। তার অভিযোগ, বিভিন্ন আসনে ভোট গণনার ক্ষেত্রে একেক রকম নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থার প্রভাব ছিল। তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে তারা আন্তর্জাতিক মহলসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্য উপস্থাপন করেছেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার জায়গা থেকে সরে এসেছে এবং দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করেছে। তার ভাষায়, ভবিষ্যতের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে জবাবদিহির আওতায় থাকা উচিত। কমিশন যদি জনগণের আস্থা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের দাবি আরও জোরালো হবে।
অন্যদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এসব বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সমালোচনা ও কঠোর ভাষার সঙ্গে নির্বাচন কমিশন পরিচিত এবং এসব বক্তব্যে তারা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুব্ধ নন। তার দাবি, কমিশন কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করেনি; বরং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনই ছিল তাদের লক্ষ্য।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ধারাবাহিক বক্তব্য এবং নির্বাচন কমিশনের পাল্টা অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। একদিকে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন তাদের কার্যক্রমকে আইন ও সংবিধানসম্মত বলে দাবি করছে।



