অনুসন্ধানঅভিযান

খাদিম চা বাগানে জমি দখল ও পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগখাস জমি, চা বাগানের ভূমি ও পাহাড়ে দখলের অভিযোগ; ছড়া থেকে বালু উত্তোলনও অব্যাহত, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

হাসান জুলহাস : সিলেট
সিলেট সদর উপজেলার খাদিম চা বাগান ও সংলগ্ন এলাকায় সরকারি খাস জমি, লিজকৃত চা বাগানের ভূমি, পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল ও ছড়া দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দখল, পাহাড় কাটা, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং অনুমোদনহীনভাবে বালু উত্তোলনের কারণে একদিকে যেমন পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি সম্পদও বেদখলের ঝুঁকিতে পড়েছে।
অনুসন্ধানে স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খাদিম চা বাগানের বিভিন্ন অংশে অনুমোদন ছাড়াই পাহাড়-টিলা কেটে সমতল করা হচ্ছে। পরে সেই জমি প্লট আকারে ভাগ করে বিক্রি কিংবা আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে চা বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও পরিবেশগত ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি খাস জমি ও লিজকৃত চা বাগানের জমি অবৈধভাবে দখল ও হাতবদলের চেষ্টা চলছে। ভূমি-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি খাস জমি কিংবা লিজকৃত চা বাগানের জমি ব্যক্তিগতভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো আইনগত সুযোগ নেই। ফলে এ ধরনের লেনদেন হয়ে থাকলে তা আইনগতভাবে বৈধ নয়।
অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয় প্রভাবশালীর নাম উঠে এসেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংবাদ প্রকাশের আগে তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আলুরতল, বাঘমারা, দেবপুর মৌজা এবং খাদিম চা বাগানের বিভিন্ন ছড়া থেকে অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন চলছে। এতে ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে ভাঙন ও পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
বর্তমানে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং শাহপরান থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে সরকারি খাস জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দেবপুর মৌজা (জে.এল. নং ৯৬৮১), বহর মৌজা (জে.এল. নং ৭০) এবং খাদিমনগর মৌজা (জে.এল. নং ৭১)-এর একাধিক দাগভুক্ত সরকারি জমিতে দখল ও নির্মাণকাজ চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, বিভিন্ন সময়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করলেও কেন এসব অভিযোগের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না? কারা এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে এবং কীভাবে বারবার একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পরিবেশবিদদের মতে, চা বাগান কেবল অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত অঞ্চল। পাহাড়-টিলা কাটা, বন উজাড় এবং অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বক্তব্য সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খাদিম চা বাগানের ভূমি ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button