
অথচ এই মানুষগুলোকে রাতদিন বিরক্ত করে পদে পদে এদের কাজে বাধা দিয়েছে বিএনপি ।
“উপদেষ্টা থাকা কালে একবার চট্টগ্রাম যেয়ে রেলওয়ে হাসপাতাল দেখতে যাই। দেখি বিশাল স্থাপনা, কিন্তু মাত্র তিনজন রুগি। ডাক্তার, নার্স, ক্লিনার, প্রহরী মিলে জনা বিশেক কর্মচারী। কিছু নতুন যন্ত্রপাতি ও আছে। সেবা কেবল রেলের কর্মচারী ও তাদের পোষ্যদের মধ্যে সীমিত।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেঝে রোগী থাকতে হচ্ছে। আমি সহকর্মী কর্মকতাদের জিজ্ঞেস করি রোগী নাই কেন? তাঁরা বললেন, ডাক্তার, নার্স নাই, পানির অসুবিধা তাই রোগী আসেনা। আমি পরামর্শ করলাম হাসপাতালটা সবার জন্ম উন্মুক্ত করে দিলে কেমন হয়। তারা বললেন, রেলের কর্মকর্তা কর্মচারী ও পোষ্যদের সেবা অক্ষুন্ন থাকলে অসুবিধা নাই।
পানির জন্য ওয়াসার কাছে আবেদন করে কাজ হয়নি। আবেদন করা সত্ত্বেও, সি আর বি, চট্টগ্রাম রেল স্টেশন, হাসপাতাল কোথাও ওয়াসা সংযোগ দেয়নি।
ঢাকায় ফিরে, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান আপাকে বললাম, রেলের সব হাসপাতাল আপনি নিয়ে নেন। ডাক্তার, নার্স ও সরঞ্জাম দেন। তাঁর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়ে রেল সচিব ফাহিমকে বললাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে একটা সমঝোতা স্মারক করে রেলের সব হাসপাতাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থাপনার জন্য দিয়ে দাও। দুসপ্তাহের মধ্যে স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
ওয়াসার পানি সরবরাহের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফকে বলি এমন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওয়াসা পানি সরবরাহ করছেনা কেন? সে বললো আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি। নিবিড় তত্বাবধান ও ডিপোজিট জমা করে মাস খানেকের মধ্যে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন, হাসপাতাল ও সি আর বি তে ওয়াসা পানি সরবরাহ শুরু করে।
আজ পূর্বাঞ্চল রেলের জেনারেল ম্যানেজার ফোন করে জানালো হাসপাতালে এখন প্রায় তিনশ রোগী, খুব ভালো চলছে। রেলের লোকজন ও বিনামূল্যে উন্নত সেবা পাচ্ছে। আরেকটা ছোট কাজ করেছিলাম, প্রাইভেট সেক্টরকে অনুরোধ করে রেল স্টেশন গুলি ও সি আর বি তে বড় ডাস্টবিন লাগিয়েছিলাম। জিএম জানালো এতে করে স্টেশনে পরিচ্ছন্নতা বেড়েছে।
সময়াভাবে রেলের মূল সমস্যা ইঞ্জিন ও বগির অপ্রতুলতা লাঘবের কাজ শুরু করলেও শেষ করতে পারিনি। কিন্তু ছোট ছোট কাজগুলি মানুষের উপকারে আসছে জেনে ভালো লাগলো।
আসলে ক্ষমতাসীনরা চাইলেই জনকল্যাণ করতে পারে।
মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
(সাবেক উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়)



