দেশের ব্যাংক লুটে লন্ডনে রাজকীয় জীবন নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল পরিবারের! ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তিনি জেলে বন্দী

তাছমিনা খন্দকার লন্ডন
মোট অবৈধ সম্পদ: নজরুল ইসলাম মজুমদারের কুমিল্লার লাকসামে বাড়ি। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৭৮১ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। পাচারের মাধ্যম: তিনি মূলত ৩টি পদ্ধতিতে দেশ থেকে অর্থ পাচার করেছেন—আমদানি, রপ্তানি বাণিজ্য এবং হুন্ডি।
বাণিজ্যের আড়ালে জালিয়াতি: রপ্তানি করা পণ্যের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে না এনে সরাসরি বিদেশে রেখে দিয়ে তিনি ট্রেড বেজড মানি লন্ডারিং করেছেন।ইনভয়েসিং জালিয়াতি: পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্ডার-ইনভয়েসিং ও ওভার-ইনভয়েসিংয়ের আশ্রয় নিয়ে তিনি হাজার কোটি টাকা সরিয়েছেন।
ব্যাংক থেকে অর্থ লোপাট: নিজের প্রতিষ্ঠিত এক্সিম ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যাংক খাত থেকে নাসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ঋণ দেখিয়ে টাকা বের করেন। যুক্তরাজ্যে সম্পদ ক্রোক: তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে তাঁর প্রায় ৫৯৮ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেয় বাংলাদেশের আদালত।
লন্ডনে মোট সম্পত্তির মূল্য: বিএফআইইউ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে তাঁর প্রায় ৪৩ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পত্তি রয়েছে।লন্ডনের বিলাসবহুল বাড়ি: লন্ডনের অন্যতম ব্যয়বহুল এলাকা কেনসিংটনের ফিলিমোর গার্ডেন এবং ব্রান্সউইক গার্ডেনে তাঁর একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে।
লন্ডনে বাড়ির সংখ্যা: তদন্ত অনুযায়ী, লন্ডনের কেনসিংটন এলাকাতেই এই পরিবার প্রায় ৫টি বিলাসবহুল প্রোপার্টি বা বাড়ি কেনে। অন্যান্য দেশে সাম্রাজ্য: শুধু যুক্তরাজ্য নয়, তিনি কানাডার স্কারবরো, দুবাইয়ের মেরিনা এলাকা, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডেও অর্থ পাচার করে সম্পদ গড়েছেন।
নথিভুক্ত ভুয়া প্রতিষ্ঠান: অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যে তিনি এএনডব্লিউ প্রোপার্টিজ লন্ডন এবং এএনডব্লিউ অ্যাসোসিয়েটস লন্ডন নামে শেল কোম্পানি খোলেন।যুক্তরাষ্ট্রেও পাচার: সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ৩০ লাখ (৩ মিলিয়ন) ডলার পাচারের অকাট্য প্রমাণ মেলে।
স্ত্রীর পরিচয়: তাঁর স্ত্রীর নাম নাসরিন ইসলাম, যিনি নাসা গ্রুপের অন্যতম পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।স্ত্রীর সম্পদ ক্রোক: দুর্নীতির সহযোগী হিসেবে তাঁর স্ত্রী নাসরিন ইসলামের নামে থাকা ফ্ল্যাট ও বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারও আদালত জব্দ করেছে।
*ঢাকায় গুলশান মডেল টাউন আবাসিক এলাকায় তাঁর দুটি ১৪-তলা বাড়ি রয়েছে। ঢাকায় মহাখালী এলাকায় তাঁর ৩টি বহুতল বাড়ি (২-তলা, ৪-তলা এবং আরেকটি ৪-তলা) রয়েছে।পূর্বাচলে তাঁর মোট ৮টি প্লট রয়েছে যা শেখ হাসিনা দিয়েছে।
সন্তানদের সংখ্যা: নজরুল ইসলাম মজুমদারের দুইজন সন্তান রয়েছে—এক ছেলে ও এক মেয়ে।
ছেলের নাম ও সম্পদ: তাঁর ছেলের নাম ওয়ালিদ ইবনে ইসলাম, যাঁর নামে বিদেশে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি স্থানান্তর করা হয়। মেয়ের নাম ও লন্ডনের বাড়ি: তাঁর মেয়ের নাম আনিকা ইসলাম; মূলত তাঁর নামেই লন্ডনের ফিলিমোর ও ব্রান্সউইক গার্ডেনের বাড়িগুলো কেনা হয়েছিল।
জামাতা বা জামাই: তাঁর জামাতার নাম মোজাম্মেল হোসেন, যাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামেও এক্সিম ব্যাংক থেকে অনিয়মিত ঋণ নেওয়া হয়। পরিবারের বর্তমান অবস্থান: নজরুল ইসলাম মজুমদার বর্তমানে বাংলাদেশের কারাগারে থাকলেও তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা মূলত যুক্তরাজ্য (লন্ডন) এবং দেশের বাইরে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।
ভ্রমণ ও সম্পদ নিষেধাজ্ঞা: দুর্নীতির মামলা হওয়ার পর নজরুল ইসলাম মজুমদার, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ রয়েছে।
ছবির প্রত্যেকটি বাড়ি নজরুল ইসলাম মজুমদারের বাংলাদেশের পাচারের টাকায় কেনা।
(খুব শীঘ্রই তার লন্ডনের বাড়িগুলো সরাসরি ভিডিও তে দেখানোর চেষ্টা করবো)
আমার লেখা ভালো লাগলে প্লিজ লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করবেন। প্লিজ লেখা, ভিডিও নিয়মিত পেতে ফলো দিয়ে রাখুন। ধন্যবাদ



